অনলাইন রিটেইলারদের মূল্য নির্ধারণের ভুল ও স্টক পুনরায় ভরার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছেন একদল রিসেলার। শকডআইও নামের একটি সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা জেএস দাবি করেছেন, তার এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি ৪৪ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন। তিনি তার পুরো নাম প্রকাশ করতে চান না, কারণ তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ে জড়িত এবং তার আইনি নামে একটি পাবলিক ওয়ালেট রয়েছে। ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াইমিং ভিত্তিক এই এলএলসি ও তার অজ্ঞাত পরিচয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রায় ৪৫ লাখ ডলার আয় করেছেন ছয় বছরের কম সময়ে। বর্তমানে মাসিক ফি ১০০ ডলার, যা ২০২০ সালে চালুর সময় ছিল ২৫ ডলার।

প্ল্যাটফর্মটি সরাসরি পণ্য ক্রয় করে না; বরং এটি সার্বক্ষণিক বিভিন্ন রিটেইলারের পণ্যের পাতা স্ক্যান করে। যখনই কোনো দোকানে নতুন স্টক আসে, দাম কমে যায় বা কোনো প্রচার শুরু হয়, তখনই সদস্যদের তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। জেএস জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রতিটি পুনরায় স্টকিংয়ের উপর নজর রাখি। আমাদের মনিটরগুলো ২৪ ঘণ্টা পণ্যের পাতা স্ক্র্যাপ করে। ওয়ালমার্ট যেই মুহূর্তে কিছু পুনরায় স্টকে রাখে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারি।’ এই সফটওয়্যারটি মানুষের চোখে পড়ে না এমন পরিবর্তনও ধরতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা ৫০ ডলারে পিএস৫, ১০০ ডলারে ল্যাপটপ এমনকি বিনামূল্যে ল্যাপটপও পেয়েছেন, যদিও অনেক সময় রিটেইলাররা ভুল অর্ডার বাতিল করে দেয়।

প্রথমে শুধু জুতার রিসেলারদের জন্য একটি ফ্রি সার্ভার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে এটি সাবস্ক্রিপশন মডেলে রূপান্তরিত হয়। জেএসের মতে, তিনি নিজে আগে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন গ্রুপের সদস্য ছিলেন, কিন্তু একজন ডেভেলপারকে নিয়োগ দিয়ে নিজের কমিউনিটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে শকডআইওতে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন ডেভেলপার, গবেষক ও অ্যাডমিন কর্মরত রয়েছেন, যারা প্রায় ৮৫০ জন পেইড সদস্যকে সেবা দিচ্ছেন। সর্বোচ্চ সময়ে সদস্য সংখ্যা ছিল ১,৫০০। এই ব্যবসায়িক মডেল আইনি ধূসর এলাকায় পড়ে। ওয়ালমার্টের পরিষেবার শর্তাবলী অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা তাদের সাইট থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য ‘স্ক্র্যাপ’ বা ‘ডেটামাইন’ করতে পারবেন না, তবে ক্রয়ের জন্য নজরদারির বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। জেএস দাবি করেন তাদের পদ্ধতি ‘১০০% আইনি’, এবং অনেক ডিল কোম্পানিগুলোর নিজস্ব প্রচার থেকে আসে। যেমন ফ্যানাটিকস তাদের ইভেন্টের জন্য বিনামূল্যে গিফট কার্ড দিচ্ছিল, তারা তা সাধারণ মানুষের আগে খুঁজে পেয়ে নিয়ে নিয়েছে।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের অর্থনীতির অধ্যাপক জিয়ান লুকা ক্লেমেন্টি বলেন, প্রযুক্তির কারণে সাইড হাস্টলের সুযোগ বেড়েছে। আগে প্রতিবেশী বা স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা যেত, এখন অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ক্রেতার কাছে পৌঁছানো যায়। জেএস ২০২০ সালের মহামারির শুরুর দিকে এই প্ল্যাটফর্ম চালু করেন, যখন সরবরাহ শৃঙ্খলে ঘাটতি ছিল এবং মানুষ ঘরে বসে আয়ের উপায় খুঁজছিল। শকডআইওর অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, ৪৪ জন নতুন সদস্যের মধ্যে ৪০ জনই প্রথম সপ্তাহে তাদের সাবস্ক্রিপশন ফি তুলে নিতে সক্ষম হয়েছেন। জেএস এই কমিউনিটিকে তার ‘দ্বিতীয় পরিবার’ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে কেউ নেটওয়ার্থ বাড়াতে চায়, আবার কেউ সংসারের জিনিসপত্র সাশ্রয়ের চেষ্টা করে। তিনি মনে করেন, সাবস্ক্রিপশন মডেলটি এখন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে গেছে এবং লোকজন এটাকে আর প্রতারণা মনে করে না।