রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার নিরাপত্তাকর্মী রাসেল মৃধাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম নতুন করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানালে তা খারিজ করে দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মারুফ রেজা আদালতের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত নয়টায়। ওই সময় শিশুটি নিজ বাসা থেকে খেলতে বের হলে আর ফিরে আসেনি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসার পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা স্থান থেকে পানির মধ্যে উপুড় অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৫ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তে পুলিশ ৫৪ ধারায় রাসেল মৃধাকে গ্রেপ্তার করে। ৫ মার্চ প্রথম দফায় তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল।

ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিশুটিকে পানিতে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম দফার রিমান্ড শেষে রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হলেও ময়নাতদন্তের নতুন তথ্যের কারণে ফের তাকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, নতুন আলামত উদঘাটনের জন্য এই রিমান্ড অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

ঘটনাটির পর থেকেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলেন, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে।