বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সমাবেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং আহত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জোরালো দাবি জানিয়েছে। ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এর আগে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়, যা জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে সমাবেশে রূপ নেয়।

সমাবেশে বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এই আন্দোলনে অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আন্দোলনের সময় নির্বিচারে প্রাণঘাতী হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান কাদের গনি চৌধুরী। একইসঙ্গে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার থাকার কথাও বলেন তিনি।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতা ও সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, এই আত্মত্যাগ যেন কখনো বিফলে না যায় সে জন্যই বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান। এছাড়া সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।

সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, বিএফইউজের সহসভাপতি খাইরুল বাশার, প্রচার সম্পাদক সাজান সাজু, দপ্তর সম্পাদক আবু বকর, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, রাজু আহমেদ এবং এইচ এম আলামিন। জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, সাংবাদিক নেত্রী মাসুদা আক্তারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের পুনর্বাসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, এই আন্দোলনের ফল যাতে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগে সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।