ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর এলাকায় এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই গুরুতর অপরাধটি জানাজানির পর স্থানীয় পর্যায়ে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন যুবক এবং দুইজন কিশোর রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম মোহাম্মদ সাকিব (১৮), যিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। বাকি দুজন কিশোরের বয়স যথাক্রমে ১৫ ও ১৬ বছর।
পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, গত শুক্রবার ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনাটি জানাজানির পর সোমবার রাতে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি একটি সালিস বৈঠক আহ্বান করেন। সেখানে অভিযুক্তদের প্রত্যেকের ওপর ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে এই অনৈতিক সমঝোতা মেনে নেননি স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আলম। তিনি জানান, এমন জঘন্য অপরাধ সালিসের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখান করেছেন এবং ভুক্তভোগীর স্বামীকে আইনি পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছেন।
ইউপি সদস্যের পরামর্শ অনুযায়ী, নির্যাতিতার স্বামী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলবে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন যে, মামলার এজাহারে নির্দিষ্ট তিনজনের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সালিসের নামে এই অপরাধ গোপন করার চেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তদন্তে তাদের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




