আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তার ও কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় লতিফ সিদ্দিকীকে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আসামি করা সম্পূর্ণ অন্যায়। কাদের সিদ্দিকীর মতে, এই মামলা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘নিষ্কলুষ’ এক ব্যক্তিকে ফাঁসানোর জন্য রচনা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৩ বছর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদেশের পর ট্রাইব্যুনাল থেকে তাকে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়া নিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তার ভাই তখন পাটমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এবং ‘পাট নিয়ে হত্যা চলে না’। তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতের কর্মীদের সরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় লতিফ সিদ্দিকী জড়িত ছিলেন না। তিনি ‘কিচেন ক্যাবিনেটের’ও অংশ ছিলেন না বলে মন্তব্য করেন কাদের সিদ্দিকী।
হাতকড়া পরিয়ে আদালতে আনার বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার হ্যান্ডকাফ নিয়ে কোনো ব্যাপার নাই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে হ্যান্ডকাফ বহুবার পড়েছে। হ্যান্ডকাফকে আমরা খুব একটা খারাপ কিছু মনে করি না। বিবাহের সময় মেয়েদের হাতে যেমন চুড়ি দেওয়া হয়, আমরা ওরকমই মনে করি।’ তবে আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের আচরণ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, ‘গতরাতে তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি তাদের যে সুন্দর ব্যবহার দেখছি, এখানে তার বিপরীত একেবারে অসুন্দর ব্যবহার। আমার গায়েও ধাক্কা লেগেছে।’
লতিফ সিদ্দিকীর বয়স ৮৭ বছর উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী তাকে ‘নিষ্কলুষ’ ও ‘সম্মানী ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী না হলে আমি একজন রিকশাচালক হতাম, অথবা গরুর রাখাল হতাম। আমি মনে করি সম্মানী ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়া উচিত।’
লতিফ সিদ্দিকী কেন নিজের ফাঁসি চাইছিলেন—এই প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মানুষ বাঁচে কদিন? উনার ৮৭ হয়ে গেছে, আমার ৮০ হয়ে গেছে। এখন যদি উনি কোনো অপরাধের দায়ে—যে অপরাধটা তিনি করেন নাই, তার ফাঁসি হয়, আমরা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাকে তখন মুক্তি দেবেন, আল্লাহ নিজেই বলেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিনা অপরাধে যদি তার ফাঁসি হয়, তাহলে তো দুনিয়ায় যে ভুলত্রুটি করেছেন সেগুলো থেকে তিনি মাফ পাবেন। আমরাও সেটা চাই।’
লতিফ সিদ্দিকী কীভাবে আওয়ামী লীগ থেকে ‘বিতর্কিত’ হয়ে ওঠেন তা নিয়েও কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেন, লতিফ সিদ্দিকী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘জয় দেশের মানুষ নয়, রাস্তার মানুষ নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার ভাষ্য, ‘উনি বলতে চেয়েছিলেন যে জয় হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি, তাই ফ্যালনার মানুষ না। এবং সেইটাকেই ‘জয় কারা’ এই কথাটা বলে তার বিরোধী পক্ষ শেখ হাসিনার কান ভারী করতে পেরেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলব যে, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি যে শেখ হাসিনার কান তখন ভারী ছিল। উনি (লতিফ সিদ্দিকী) আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।’
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী স্পষ্টভাবে জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনায় তার ভাই ‘একেবারেই নির্দোষ’।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




