যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ‘কঠোর’ মনোভাবের কথা ঘোষণা করেছেন। ডোভার বন্দর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি ছোট নৌকায় করে আসা অভিবাসীদের সমস্যা সমাধানে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এই কঠোর নীতির আওতায়, গত দেড় বছরে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) কর্মকর্তার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ৩৭৬, বর্তমানে তা প্রায় ৮০০-তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ডোভারের জয়েন্ট কমান্ড রুম পরর্দশন শেষে বার্নহাম সাংবাদিকদের বলেন, “সীমান্ত অনিয়ন্ত্রিত মনে হওয়ার ধারণাটি জনগণ পছন্দ করে না। আমাদের সেই নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন, তবে সেসাথে প্রকৃত সহায়তা প্রত্যাশীদেরও সমর্থন দিতে হবে। তাই আমরা কঠোর থাকব।”

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে এবং এর ফলে নাইজেল ফারাজের কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের জনসমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট নৌকায়কারীদের ‘আক্রমণ’ বলে অভিহিত করা এবং আটক করে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ফারাজের আপসহীন অবস্থান দলটিকে জনমত জরিপের শীর্ষে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। “জনগণ এই ইস্যুটির সমাধান দেখতে চায়। মেকারফিল্ডের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আমি তা শুনেছি,” বার্নহাম বলেন। “কিন্তু আমাদের একই সাথে একটি এমন ব্যবস্থাও গড়তে হবে যা সাধারণের জন্য নিরাপদ রুট নিশ্চিত করে, কারণ তাতে পাচারকারী চক্রের মূল পুঁজিটিই শেষ হয়ে যাবে।”

যদিও এবছর ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীর সংখ্যা ২০২৫ সালের তুলনায় অনেক কম, তারপরও ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। চলতি বছরের প্রাথমিক অনুমান ১৪,৫৬, যা গত বছরের চেয়ে ৪৩% এবং ২০২৪ সালের সমান সময়ের চেয়ে ১৪% কম। রোববার ডোভারের যৌথ নির্দেশনা কক্ষ পরিদর্শনকালে বার্নহাম এনসিএ এবং বর্ডার সিকিউরিটি কমান্ডের সদস্যদের কাজ করার অভিজ্ঞতা নেন।

অপরদিকে তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ওই দিন লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ডে এনসিএ-এর কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সীমান্ত নিরাপদ করতে যা যা প্রয়োজন, আমি তাই করছি।” মাহমুদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে লেবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা ৪১% বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, “যখনই তারা মানুষকে চ্যানেল পাড়ি দিতে দেখেন, তখনই তাদের মতো আমিও অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন হই।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এনসিএ-র সম্পৃক্তায় প্রায় ৩০০ গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয় এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে মানব পাচারকারীদের জন্য নির্ধারিত ১,০৯টিরও বেশি ছোট নৌকা ও ইঞ্জিন জব্দ করতে সহায়তা করেন কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, এসব নৌকা ও ইঞ্জিন ৭২ হাজার অভিবাসী পার করতে পারত।

বার্নহাম ও মাহমুদের এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন উত্তর আফ্রিকার স্পেনীয় ছিটমহল সেউতার সংকটের কারণে ইউরোপজুড়ে অবৈধ অভিবাসনের ইস্যুটি নতুন করে প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত সপ্তাহে প্রায় ৬০ হাজার মরক্কান অভিবাসী সেইউতাতে অনুপ্রবেশ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ সীমান্ত পরীক্ষা আরোপের এবং এমনকি স্পেনকে ইইউর শেঙ্গেন চুক্তি থেকেও স্থগিত করার হুমকি দেয়। এই চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সীমান্তে পরীক্ষা ছাড়াই যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।