পাঁচ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠাৎ হামলা ঘোষণা ও তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের নাটকীয়তায় বিশ্ববাসী প্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার রাতে ফের একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি, যখন জানান যে যুদ্ধ অবসান ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত ইঘানের ওপর নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা স্থগিত থাকবে।
এই আকস্মিক পরিবর্তনগুলিই মূলত পাঁচ মাসের যুদ্ধের সংজ্ঞার্থে পরিণত হয়েছে, যে দ্বন্দ্ব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। ট্রাম্পের ঘোষণাগুলো প্রায়শই কয়েক দিন বা ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে আক্রমণের কারণে বাতিল হয়েছে।
অতীতের দিকে ফিরে তাকালে এর একটি সুস্পষ্ট ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া যায়। গত ৭ এপ্রিল ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া তীব্র লড়াই বন্ধের জন্য দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইঘান। ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছিলেন তেহরানকে আত্মসমর্পণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে, যেখানে ব্যর্থ হলে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আক্রমণ করতেন তিনি।
এরপর ২১ এপ্রিল যুদ্ধবির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প, উল্লেখ করে যে মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে ইঘানি নেতৃত্বকে বাড়তি প্রস্তাব দেওয়ার সময় দিচ্ছেন তিনি। তবে এই ভঙ্গুর যুদ্ধবির টেকেনি ৮ মে পর্যন্ত, সেদিন ইঘানি তেল ট্যাংকারে মার্কিন হামলায় তা ভেঙে যায়।
১৮ মে ভয়াবহ হুমকির পর একইভাবে একটি বড় সামরিক অভিযান স্থগিত করেন ট্রাম্প, তখন তিনি দাবি করেন, “গুরুতর আলোচনা” চলছে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “মনে হচ্ছে তারা কোনো একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারে। যদি তাদের ধ্বংস না করে এটি করা যায়, আমি খুবই খুশি হব।” কিন্তু ২৭ মে নাগাদ আলোচনা স্থলে আবারও হামলা শুরু হয়।
১১ জুন দুই দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প আবারও বড় পরিসরে আঘাতের হুমকি দেন এবং জানান যে মার্কিন বাহিনী ইঘানের জ্বালানি ও গ্যাস শিল্পের “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” নিয়ে নেবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে আক্রমণ স্থগিতে ঘোষণা দেন তিনি।
এরপর ১৭ জুন ইঘানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা স্থায়ী শত্রুতা বন্ধ ও হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি ইগানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারিত হয়। তবে চুক্তিটি পরিত্যাগেরও সুযোগ রাখা হয়।
৭ জুলাই হরমুজ প্রণালীতে ইরানি হামলার জবাবে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে থাকা ট্রাম্প নতুন করে হামলার নির্দেশ দেন। ২৭ জুলাই তিনি আবারও টানা দুই সপ্তাহের তীব্র, দৈনন্দিন হামল স্থগিতে করে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন।
সর্বশেষ ১ আগস্ট ট্রাম্প মিত্রদের অনুরোধের কথা উল্লেখ করে পরিকল্পিত বড় আক্রমণ বাতিলের কথা বলেন এবং দাবি করেন, যুদ্ধ সমাপ্তি ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য একটি চুক্তির রূপরেখায় পৌঁছেছে পক্ষগুলো। ট্রাম্প তার বার্তায় বলেন, “এই অনুরোধের ভিত্তিতে, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কল্যাণ ও একইসাথে একটি সফল ও সমৃদ্ধশালী ইঘাতের টিকে থাকার স্বার্থে আমি আক্রমণ বাতিলে সম্মতি দিয়েছি, এই শর্তে যে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।” এর প্রতিক্রিয়ায় ইঘাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা তাদের জন্য বিস্ময়কর নয় এবং তারা হুমকির মুখেও সর্বদা সতর্ক অবস্থায় আছে।


