সাতক্ষীরা সদর থানার হাজত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জেরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার রাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার ডিউটি অফিসার পিংকি রায় এবং সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকেও বদলি করা হয়েছে। ওসি মাসুদুর রহমানকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পরিদর্শক (তদন্ত) শাহেদুর রহমান। নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি জানান, ওসি পুলিশ লাইনসে রয়েছেন এবং আপাতত তিনি থানার দায়িত্ব পালন করছেন। বদলি হওয়া অন্য দুই কর্মকর্তার মধ্যে পিংকি রায়কে শ্যামনগর থানায় এবং এনিভা খাতুনকে কালীগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সকালে, যখন সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতি লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং নিষিদ্ধ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পরদিনই আলমগীর হোসেনের হাজতের ভেতর থেকে তোলা ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ১৫ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে ওই হাজতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী আটক ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি থানায় এসে তাদের সঙ্গে দেখা করেন এবং পুলিশের নজর এড়িয়ে মুঠোফোনে সেই ভিডিও ধারণ করেন। থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় এই ঘটনা সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাজত থেকে ভিডিও প্রকাশের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সূত্রপাত হয়। এরই মধ্যে সোমবার বিকেলে শহরের নিউমার্কেট চত্বরে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ওসি মাসুদুর রহমানের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেই কর্মসূচির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই রাতের মধ্যে ওসিসহ তিন কর্মকর্তাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো।

তবে জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলছেন, এই বদলিকে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত করতে রাজি নন তিনি। তাঁর মতে, সদর থানার ওসির বদলি সম্পূর্ণ নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। পুলিশ বাহিনীতে নিয়মিতভাবেই বদলি ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়ে থাকে এবং এটির সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার যোগসূত্র নেই। ডিউটি অফিসার ও সহকারী ডিউটি অফিসারের বদলিও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের আওতাভুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন পুলিশ সুপার।