রাজশাহী নগরের সিপাইপাড়ার বাসিন্দা তিশা খাতুন এবং তাঁর স্বামী নয়ন ইসলামের ঘরে একসঙ্গে চার সন্তান এসেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে প্রসববেদনা শুরু হলে তিশাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত তিনটার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দেন। সংসারে একসঙ্গে চারটি নবজাতক আসায় আনন্দের পাশাপাশি কিছুটা শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ জানান, নবজাতকদের মধ্যে দুজনের ওজন ১ কেজি করে, একজনের ওজন ১ কেজি ১০০ গ্রাম এবং আরেকজনের ওজন ১ কেজি ৩০০ গ্রাম। এই ওজনকে প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে কম বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাধারণত দেড় থেকে দুই কেজি ওজন জন্মের সময় কিছুটা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। তবে এই চারটি শিশুর ওজনই স্বাভাবিকের নিচে। তারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ ৩৪ সপ্তাহে জন্ম নিয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ঝুঁকি সম্পূর্ণ এড়ানো যায়নি বলেও জানান তিনি।
মুখপাত্র আরও বলেন, অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফুসফুসের কার্যকারিতা ঠিকমতো না থাকা। যদিও এই চারটি শিশু এখন পর্যন্ত টিকে আছে। তাদের এখনো মুখে খাবার দেওয়া হচ্ছে না, বরং সিরাপের মাধ্যমে পুষ্টি সরবরাহ করা হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নবজাতকদের হাসপাতালের স্ক্যানু ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাদের রাখা হবে।
নতুন বাবার প্রতিক্রিয়ায় নয়ন ইসলাম বলেন, আল্লাহ তাঁকে একসঙ্গে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে দান করেছেন। তিনি শুধু এই দোয়াই করেন যে, সন্তানরা যেন সুস্থ থাকে এবং বড় হয়ে ভালো মানুষ হয়। সন্তানদের জন্মের পর থেকে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের রাখা হয়েছিল বলে স্বজনেরা জানান।




