লালমনিরহাট জেলায় সাধারণত অটোরিকশাই বেশি দেখা যায়। সম্প্রতি সেখানে একটি প্যাডেল রিকশার সন্ধান মেলে, যা চালান এক ব্যক্তি। তিনি ২০০৩ সাল থেকে প্যাডেল রিকশা চালিয়ে আসছেন। যুগের পরিবর্তন সত্ত্বেও তিনি এই বাহন পরিবর্তন করেননি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্যকে তিনি হারিয়ে যেতে দিতে চান না।

রিকশাচালকের মতে, দিনে তিনি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করেন। ৪০০ টাকা হলেই তিনি বাড়ি ফিরে যান। এই আয়েই তাঁর সংসার চলে। তিনি মনে করেন, প্যাডেল রিকশা চালানো তাঁর শরীরের জন্যও ভালো। যেহেতু এটি কষ্টসাধ্য, তাই তিনি কাছাকাছি দূরত্বের যাত্রী নেন। অর্জিত আয় নিয়েই তিনি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট। কোনো অভিযোগ নেই তাঁর।

লেখকের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, তিনি ভেবেছিলেন রিকশাচালক অতিরিক্ত ভাড়া চাইবেন। কিন্তু তিনি কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই ন্যায্য ভাড়া নিয়েছেন। যাদের খুব তাড়া থাকে, তাদের তিনি নেন না বলেও জানান। তারা নিজেরাও এই ধীরগতির রিকশায় চড়তে চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিকশাচালকের ভাষ্য, বর্তমান প্রজন্মের সময়ের খুব অভাব। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আগের দিনের মানুষের চেয়ে তারা বেশি সময় পান না। পূর্ববর্তী প্রজন্ম প্যাডেল রিকশা, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী বাহন ব্যবহার করত। সে সময় দুর্ঘটনাও কম ঘটত এবং কোনো ঐতিহ্যও হারিয়ে যেত না। তিনি মনে করেন, সবার উচিত নিজের ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা করা ও সংরক্ষণ করা।

লেখক: শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণি, লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, লালমনিরহাট।