ঢাকার কিশোর আলো কার্যালয়ে গত ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের ১১২তম কিআড্ডা। দুপুর তিনটার মধ্যেই সভাকক্ষে জড়ো হয়েছিলেন রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কিশোর-কিশোরীরা। শুরুতে রোবটিক্স নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্ত নুসাইবা তাজরিন তানিশা। তিনি জানান, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে ইউটিউব ও বইয়ের মাধ্যমে রোবট বানানো শিখেছিলেন। তিনি বলেন, আগামী প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। তানিশার মতে, চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০২২ সালে শেখা শুরু করে মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিতে পেরেছিলেন; ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। রোবটিক্সের নানা দিক নিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
এরপর আড্ডায় আসেন কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক। তিনি শৈশবের নানা স্মৃতি রোমন্থন করেন এবং ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে কৌতুকময় কিছু অভিজ্ঞতা শোনান। হাস্যরসের সুরে তিনি জানান, তাঁর পছন্দের দল এবার রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায় নিয়েছে। পরে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের সাগরিকার জীবনগাথা নিয়ে কিশোর আলোর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওটিতে ফুটে ওঠে নানা বাধা পেরিয়ে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম।
পরবর্তী পর্বে মঞ্চে আসেন ‘উৎসব’ ও ‘বনতলা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানিম নূর। তিনি ভবিষ্যতে কিশোরদের জন্য চলচ্চিত্র বানানোর আগ্রহের কথা জানান। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রিয় গল্প ও উপন্যাস সম্পর্কে জানতে চান তিনি এবং একটি গল্প বা উপনায়ক কীভাবে পর্দায় রূপান্তরিত হয়, তা ব্যাখ্যা করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন শিক্ষার্থী নদীভাঙনকে কেন্দ্র করে সিনেমা তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করে। গ্রামবাংলার প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এরপর ‘রইদ’ চলচ্চিত্রের কাস্টিং ডিরেক্টর সাফা জেরিন সুকন্যা তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি কিশোর আলোর প্রাক্তন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পরিচিত। তাঁর আলোচনায় ওই চলচ্চিত্রের কাস্টিং ও নির্মাণ প্রক্রিয়ার নানা দিক তুলে ধরা হয়। ‘রইদ’-এর ট্রেলার ও বিহাইন্ড দ্য সিন প্রদর্শনের পর তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় চলে।
আড্ডায় ভ্রমণপ্রেমী স্বপ্নরাজ তাঁর অভিজ্ঞতা শোনান। তিনি জানান, একবার পায়ে হেঁটে, আরেকবার সাইকেলে করে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ভ্রমণ করেছেন। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ঘুরে দেখেছেন তিনি। তাঁর ভ্রমণের নানা গল্প ও অনুপ্রেরণা সবাইকে মুগ্ধ করে।
সবশেষে ‘কিশোর আলো রিভিউ’ পর্বে সাম্প্রতিক সংখ্যার ভালো-মন্দ দিক ও চোখে পড়া ভুলগুলো নিয়ে মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা। এ পর্বে উপস্থিত ছিলেন কিশোর আলোর নির্বাহী সম্পাদক আদনান মুকিত। আড্ডা সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক আহমাদ মুদ্দাসসের। শেষ পর্বে জমজমাট কুইজ প্রতিযোগিতায় তিনজন বিজয়ী নির্বাচিত হন। স্বেচ্ছাসেবক আরেফিন ফয়সালের গান পরিবেশনার পর সবাই চিপস খেতে খেতে বিদায় নেন।




