সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে এমন এক ফুড ব্লগার—যাকে 'খাদ্যমানব' নামেও ডাকা হয়—এর জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি এক রেস্তোরাঁয় বসে থাকা অবস্থায় এক তরুণী তাকে চিনতে পেরে প্রশ্ন করে বসেন: 'আপনি কি সেই খাদ্যমানব?' এই প্রশ্নে ব্লগার কিছুটা বিচলিত হলেও নিজেকে সামলে নেন। ওই তরুণী, সিলভি নামে পরিচিত, অভিযোগ করেন যে ব্লগার একটি নিম্নমানের চাওমিনকে ভালো বলে প্রচার করেছেন। জবাবে ব্লগার স্বীকার করেন যে সেটি ছিল একটি পেইড প্রমোশন এবং পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও স্ক্রিপ্টেড।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আরও আগে। ব্লগারের ফেসবুকে ছয় লাখের বেশি ফলোয়ার এবং ইউটিউবে সাড়ে চার লাখ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। রাস্তায় বা রেস্তোরাঁয় প্রায়ই ভক্তদের সেলফি তোলার অনুরোধ মেটাতে হয় তাকে। তবে এই প্রথমবারের মতো তিনি এতটা অপ্রস্তুত হয়েছিলেন। সিলভির সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের পর ক্রমশ তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কফিশপ, আইসক্রিম পারলার—সর্বত্রই তারা একসঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করেন। ইনস্টাগ্রামে তাদের ছবি পোস্ট হলে ভক্তরা 'নাইস কাপল' ও 'হাউ কিউট' বলে মন্তব্য করতে থাকেন। এমনকি কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালেও তাদের প্রেমের গল্প প্রকাশিত হয়।
কিন্তু এই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। একদিন রেস্তোরাঁয় বসে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয় এবং তারা একে অপরকে গালাগালি করেন। পরদিনই সেই ঝগড়ার ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হয়ে যায়। ব্লগার ভীষণভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজেকে মাংসবিহীন তেহারি বা প্যাটিহীন বার্গারের মতো অনুভব করেন। সিলভির ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে সিলভিও ভালো নেই—তার চোখের নিচে কালি পড়েছে এবং তিনি একটি পোস্টে লিখেছেন, 'সব কথা শেষ হয়ে গেলে, দুঃখই ভালোবাসার মূল্য।'
এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ব্লগার সিলভিকে ফোন করার এবং ক্ষমা চাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ইনস্টাগ্রামে সিলভির একটি ঝলমলে ছবি দেখতে পান তিনি—সিলভি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পরদিন সিলভি একটি ছোট ভিডিও আপলোড করেন যেখানে তিনি 'সানশাইন' নামের একটি ক্রিম মুখে মেখে বলছেন, 'এটা শুধু ক্রিম নয়; এটি হতাশার দাগ ও হতাশা উভয়ই দূর করে।'
রাগে কাঁপতে কাঁপতে ব্লগার সিলভিকে ফোন করেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, 'এ কী হচ্ছে?' জবাবে সিলভি হেসে বলেন, 'বোকা, এটা পেইড প্রমোশন।' ব্লগার অবিশ্বাস্য কণ্ঠে বলেন, 'তাহলে আমাদের সম্পর্ক? এত দিনের এত কিছু?' সিলভি তার ট্রেডমার্ক হাসি হেসে উত্তর দেন, 'সবই স্ক্রিপ্টেড। একদম বাস্তব মনে হচ্ছিল, তাই না? আজকাল এটাই ট্রেন্ড। দিস ইজ নিউ এরা অব ডিজিটাল মার্কেটিং।'
এই ঘটনা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নতুন একটি চেহারা উন্মোচন করেছে, যেখানে বাস্তব ও কৃত্রিমের সীমানা প্রায় মুছে গেছে। ইনফ্লুয়েন্সারদের পেইড প্রমোশনের আড়ালে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আবেগকেও পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা সমাজে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।




