মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় অবস্থিত ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’ এখন বিকেলের আড্ডাপ্রেমীদের কাছে এক নতুন মিলনস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের মেদেনীমহল এলাকায় কাউয়াদীঘি হাওরের মাঝে এই স্থানটি অবস্থিত। সম্প্রতি পাশাপাশি দুটি ব্রিজ নির্মিত হওয়ায় জায়গাটির নাম হয়েছে ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’। পুরোনো একটি উঁচু ব্রিজের পাশে নতুন আরেকটি নিচু ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। নতুন ব্রিজটি সড়কের সমান উচ্চতায় হওয়ায় নৌকা চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, তবে দর্শনার্থীদের জন্য এটি আরও সুবিধাজনক হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বর্ষাকালে হাওরের জলরাশি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে শাপলা-শালুক, কচুরিপানা আর সবুজ ঘাসের ভেলা ভেসে বেড়ায়। আকাশে চিল উড়ে, জলে হাঁস সাঁতার কাটে। মেঘলা দিনেও অনেকে এখানে ভিড় করেন। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই স্থানে। ছুটির দিনে ভিড় আরও বাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা গেন্দু মিয়া জানান, বৈশাখ মাসে ধান কাটার সময় এখানে অনেক লোক থাকে। বর্ষায় মাছ ধরার জন্যও অনেকে আসেন। গত দুই মাস ধরে আশপাশ ও দূরের মানুষজন নিয়মিত আসছেন।

স্থানীয় তরুণ ও প্রবাসীরা এই স্থানকে আরও আকর্ষণীয় করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্রিজের রেলিং ও গাছের গোড়ায় রং করা হয়েছে, বসার জন্য বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা লাগানো হয়েছে। শায়েক তালুকদার ও মো. রাজন নামের দুই তরুণ জানান, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পর্যটকদের জন্য ছাউনি তৈরি, হালকা খাবারের দোকান, ফুলগাছ ও ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা স্থানটির পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হাওরের বুকে আলো-ছায়ার খেলা চলে। হাঁসের দল বাড়ি ফেরে। শেষ বিকেলের আলো মিলিয়ে গেলে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। তবুও বৃষ্টি ভিজেও অনেকে আড্ডায় মেতে থাকেন। ধীরে ধীরে সবাই বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। ভুরভুরি জোড়া পুল তখন রাত্রির নির্জনতায় ডুবে যায়।