কেরানীগঞ্জে এক কিশোরীকে হত্যার অভিযোগে তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত মোসা. তানজিলা (১৭) নামের ওই কিশোরী কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত। গত সোমবার দুপুরের খাবার শেষে খালার বাসা থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের কাছে এটিই ছিল তার শেষ দেখা। পরদিন মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মদিনানগর এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। তানজিলার মা বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা। পিবিআই জানায়, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তারা রানা হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবককে শনাক্ত করে। পরে গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রানা হাওলাদার পেশায় অটোরিকশাচালক। পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তানজিলার সঙ্গে রানার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আট মাস আগে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যা হত্যার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। রানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পিবিআই ঢাকা জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইদুল হক জানান, রানা এর আগে দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং উভয় স্ত্রীর সঙ্গেই তার বিচ্ছেদ ঘটে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন সোমবার রাতে রানা তার অটোরিকশায় তানজিলাকে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর এলাকার একটি ফাঁকা হাউজিং প্লটে নিয়ে যান। সেখানে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রানা তানজিলার গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর তানজিলার দুটি স্মার্টফোন, একটি রুপার চেইন ও ব্রেসলেট নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। রানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, নিহতের স্মার্টফোন ও অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেলে স্বজনরা তানজিলার মৃতদেহ শনাক্ত করেন।