সাবেক সান ফ্রান্সিসকো মেয়র গ্যাভিন নিউসমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রুবি রিপে, যিনি নিউসমের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করতেন, ভ্যানিটি ফেয়ারে একটি কলামে প্রথমবারের মতো ওই সম্পর্কের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, নিউসম তাদের সম্পর্ককে ‘বোকামি ও সংক্ষিপ্ত’ বলে চিহ্নিত করলেও বাস্তবে তা তার জীবনকে ভেঙে দিয়েছে।

২০০৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক প্রসঙ্গে রিপে লিখেছেন, ‘আমরা দেখা করি, মদ খাই। শারীরিক সম্পর্ক হয়, কিন্তু সেটাই মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় ছিল নৈকট্য—ক্ষমতার নৈকট্য, নির্বাচিত হওয়ার নৈকট্য। এটি ভালোবাসা বা রোমান্স নয়, এটি ছিল মাদকতুল্য।’ তাঁর মতে, নিউসমের কাছে এই সম্পর্ক ‘আরোহণের দীর্ঘ পথের একটি পাদটিকা’ মাত্র, কিন্তু তার জন্য এটি ‘ফাটল, যা তার জীবনকে আগে ও পরে—দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে।’

রিপে আরও অভিযোগ করেন, নিউসম তার স্মৃতিকথায় দাবি করেছেন যে তিনি নিজেই রিপের তৎকালীন স্বামী ও নিউসমের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার অ্যালেক্স টার্কের কাছে সবকিছু স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু রিপের মতে, আসলে তিনি আগেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন। নিউসমের বক্তব্যকে তিনি ‘প্রযুক্তিগতভাবে সমর্থনযোগ্য’ বলে মন্তব্য করলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে এতে নিউসম নিজেকে কৃতিত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ওই সময়ে সান ফ্রান্সিসকোর জেলা অ্যাটর্নি কামালা হ্যারিস রিপেকে সবচেয়ে ভালো পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রিপে। হ্যারিস তাকে বলেছিলেন, একটি প্রকাশনা সংস্থা তার স্মৃতিকথার জন্য অগ্রিম অর্থ দিতে চাইলেও তিনি যেন প্রকাশ্যে কিছু না বলেন। উল্লেখ্য, হ্যারিস নিজেও ১৯৯০-এর দশকে তৎকালীন অ্যাসেম্বলি স্পিকার উইলি ব্রাউনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন। ব্রাউন স্বীকার করেছেন যে তারা ডেটিং করেছিলেন এবং তিনি তার ক্যারিয়ারে সহায়তা করেছিলেন। হ্যারিস অবশ্য নিজেকে ব্রাউন থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাকে ‘গলায় ঝুলন্ত পাথর’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

নিউসমের মুখপাত্র ইজি গার্ডন রিপের কলামের জবাবে বলেন, ‘মেয়র থাকাকালীন প্রায় দুই দশক আগে গভর্নর তার ভূমিকা স্বীকার করেছেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর থেকে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন, পরিবার শুরু করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর সেবায় মনোনিবেশ করেছেন। তিনি তার স্মৃতিকথায় এই অধ্যায় উল্লেখ করেছেন এবং জড়িত সবার প্রতি সম্মান রেখে আর কিছু বলার নেই।’

নিউসম ও হ্যারিস দুজনেই ২০২৮ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। হ্যারিস এপ্রিলে বলেছিলেন তিনি ‘হয়তো’ দৌড়বেন এবং ‘এ নিয়ে ভাবছেন’। নিউসমও স্বীকার করেছেন যে তিনি এটি বিবেচনা করছেন, তবে সম্প্রতি বলেছেন ‘ভাগ্যই নির্ধারণ করবে’।

রিপে তার ২০ বছরের মদ্যপানমুক্ত জীবনের স্মরণে কলামটি লিখেছেন। তিনি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন কীভাবে এই সম্পর্ক তার বিবাহ ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে মদ্যপানের চিকিৎসা নিতে বাধ্য করেছিল। নিউসমের সঙ্গে তার সম্পর্কের সময় তিনি ৩৩ বছর বয়সী ছিলেন এবং নিউসমের বয়স ছিল ৩৮। তিনি লেখেন, অনেক সময় তিনি মদের নেশায় সেসব মুহূর্ত মনে রাখতে পারেন না, তবে সম্পর্কগুলি সম্মতিসাপেক্ষ ছিল এবং সাধারণত তার উদ্যোগেই শুরু হতো। তিনি মি টু আন্দোলনের প্রসঙ্গে বলেন, তার গল্পকে শিকার হিসেবে চিত্রিত করা হলেও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি জোরপূর্বক না হলেও সেখানে ক্ষমতার গতিশীলতা কাজ করছিল: ‘ক্ষমতার জোর করার প্রয়োজন হয় না, শুধু অস্তিত্ব থাকলেই হয়। দায়িত্ব ছিল যার হাতে ক্ষমতা, তাকে লাইন ধরে রাখতে হতো। সেটা হয়নি।’ নিউসম ২০০৮ সালে বর্তমান স্ত্রী জেনিফার সিবেলকে বিয়ে করেন। রিপেও পুনরায় বিবাহিত।