রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আজ শনিবার সকালে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৩-এ বিশেষ পরিচ্ছন্ন সপ্তাহের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আবদুর রহমান সানী, ডিএনসিসির সচিব মো. আসাদুজ্জামান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন নির্ধারিত সময়সূচি মেনে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটির বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসর এবং অত্যন্ত ঘনবসতির কারণে এককভাবে সিটি করপোরেশনের পক্ষে পুরো নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কার্যত সম্ভব নয়। এজন্য নগরবাসীর পক্ষ থেকেও সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলার পথে টিস্যু, প্লাস্টিক বা অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়ার অভ্যাস অবিলম্বে পরিহার করতে হবে। প্রত্যেকে যদি নিজেদের বাসভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সামনের আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার রাখেন, তাহলে শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেবল প্রশাসনের নয়—এটি সবার—এই ধারণা ছড়ানোর লক্ষ্যে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার, আপনার, সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছিল। নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বাসিন্দাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং পরিচ্ছন্নতার কাজে সবার অংশগ্রহণের বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরিই ছিল ওই সেমিনারের প্রধান উদ্দেশ্য। ওই সেমিনারের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ডিএনসিসির দশটি অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্ন সপ্তাহ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৮ আগস্ট অঞ্চল-১-এ প্রথম এই কর্মসূচির সূচনা হয়। আজ তারই ধারাবাহিকতায় অঞ্চল-৩-এ বিশেষ পরিচ্ছন্ন সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হলো।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে জানান, পরিচ্ছন্ন সপ্তাহ পালনের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন সোসাইটি, কল্যাণ সমিতি, বাড়িমালিক সমিতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট কমিটি এবং এলাকার মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, প্রত্যেকে যেন নিজেদের আওতাভুক্ত এলাকায় অন্যদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে পারেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। কমোডর হুমায়ুন কবির আরও জানান, আজকের অনুষ্ঠানে মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের পরিবহননেতাদেরও এই উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে অন্যদের মধ্যে সচেতনতা ছড়ানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




