ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার সামনে এবং থানার ভেতরের চত্বরে শনিবার দুপুরে এক নারীকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই ঘটনার চিত্র ধারণ করা হয়েছে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। ২ মিনিট ১১ সেকেন্ড দীর্ঘ ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি এক নারীকে নিজেদের স্ত্রী দাবি করে একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হয়েছেন। উপস্থিত অন্যান্যরা তাঁদের নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করছেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন নারী ওই নারীর জামাকাপড় ধরে টানাটানি করছেন বলে দৃশ্যটি স্পষ্ট। এ সময় থানার সামনে শত শত মানুষের ভিড় জমে ওঠে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত করে থানার চত্বর থেকে বের করে দেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে ওই নারী তাঁর দেবরের — যার বয়স প্রায় ২৫ বছর — সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁরা সাভারে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে আত্মীয়স্বজনেরা তাঁদের খুঁজে বের করে ভাঙ্গায় ফিরিয়ে আনেন। থানায় আসার পরই দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং তা মারামারিতে রূপ নেয়।

ভাঙ্গার যে ইউনিয়নে দুই ভাইয়ের বাড়ি, সেই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাকলেস হরকরা প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। এক পর্যায়ে দেবরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে বাড়িতে মাঝেমধ্যে বচসা ও অশান্তি হতো। গত মঙ্গলবার ওই নারী এক কাপড়ে দেবরের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁরা সাভারে গিয়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন। পরে আত্মীয়রা তাঁদের সেখান থেকে ফিরিয়ে আনেন।

ওই নারীর বাবা জানান, বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে তাঁরা থানায় এসেছিলেন। থানার প্রাঙ্গণে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই নারী প্রথমে বড় ভাইকে স্বামী হিসেবে অস্বীকার করেন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি প্রথম স্বামীকে ছেড়ে ছোট ভাইকে — অর্থাৎ দেবরকে — বিয়ে করেছেন। তিনি জানান, প্রথম স্বামীর পরিবারের লোকজন তাঁকে নির্যাতন করতেন এবং সে সময় দেবর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বামীকে ত্যাগ করে দেবরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দুজনে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ঘর-সংসার শুরু করেন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, থানার ফটকের সামনে এক নারীকে নিয়ে ঝগড়াবিবাদ শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষ থানার ভেতরে চত্বরে প্রবেশ করে ঝগড়া অব্যাহত রাখলে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁদের নিবৃত্ত করে। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়নি। উভয় পক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা বাড়িতে ফিরে গিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করবেন।