শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী এই আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলাটির নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলটির সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। জাজিরার বিলাসপুরে ককটেল তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের এক মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
গতকাল রোববার সকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শরীয়তপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও জাজিরা থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মতিঝিলে অভিযান পরিচালনা করে কুদ্দুস ব্যাপারীকে আটক করে। পরে সেদিন সন্ধ্যায় শারীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী শীলের আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহাম্মদ জানিয়েছেন, লম্বা সময় ধরে পলাতক থাকা কুদ্দুস ব্যাপারী ককটেল বিস্ফোরণে নিহত তিনজনের হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, লুটপাট ও মানব পাচারসহ ৬২টি মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানায়। কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও বেশ কয়েকটিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় ককটেল তৈরির সময় সংঘটিত বিস্ফোরণে নয়ন মোল্লা (২৫), নবী হোসেন (২২) ও সোহান ব্যাপারী (৩২) নামের তিন ব্যক্তি প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় জাজিরা থানার পুলিশ বাদী হয়ে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে, যেখানে কুদ্দুস ব্যাপারী ছিলেন একটি প্রধান আসামি।




