রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের নামে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত বিপুল অঙ্কের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টারের নেতৃত্বে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের প্রশাসনিক পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম রবিবার রাজবাড়ীর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আরজিতে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চলতি বছরের জুন শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ৭৪ জন গ্রাহকের নিকট থেকে সঞ্চয় হিসাব খোলার জন্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকা নেন। পরবর্তী সময়ে এসব অর্থ জাতীয় সঞ্চয়পত্রের হিসাবে জমা না দিয়ে তারা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১৩ জনকে প্রায় ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হলেও, অবশিষ্ট ৬১ জন গ্রাহকের ৯১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

আসামি তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা ও তার ভাই পোস্টাল জীবন বিমা (পিএলআই) এজেন্ট মাহবুব হাসান মৃধা, অফিস সহায়ক রেজাউল আলম, সে সময়ের ট্রেজারার নাজমুল হাসান এবং পোস্টাল অপারেটর গোলাম মোস্তফা ও প্রণব কুমার সরকার।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুর্নীতির এই ঘটনার প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার পর খুলনার দক্ষিণাঞ্চলীয় পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় একটি চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৬ জুলাই। সমান্তরালভাবে কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ও একই বিষয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা ২২ জুলাই এর প্রতিবেদনও জমা পড়েছে। এর আগে, ১২ জুলাই কুষ্টিয়ার কর্মকর্তারা প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে রাজবাড়ী ডাকঘর পরিদর্শন করেন। জালিয়াতির প্রক্রিয়া হিসেবে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এদিকে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরও অর্থ ফেরতের অঙ্গীকার করেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পলাতক লেটার রাইটার শিহাব মৃধা এবং তার ভাই সরকারি কর্মচারী নন।

মামলার অভিযোগে আরও জানা যায়, শিহাব মৃধার মা শিউলী বেগম ও মামা রেন্ডার আলম আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তা রক্ষিত হয়নি। পাশাপাশি, উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো যে লেটার রাইটার কোনও স্থায়ী বা রাজস্বভুক্ত পদ নয়; কিছু ডাকঘরে অস্থায়ী ভিত্তিতে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি মাসে এক গ্রাহকের নিকট থেকে সাদা কাগজের রসিদ উদ্ধারের পরই পুরো অনিয়মের বিষয়টি আলোচনার আলোকে আসে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই একই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী নাছরিন আক্তার দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেছিলেন, যেখানে আদালত পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৩ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার সমন জারি করেছিলেন। বর্তমান দায়ের কৃত মামলাটি আমলে নিয়েছেন আদালত, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার আইনজীবী বিজন কুমার ঘোষ।