পদার্থবিজ্ঞানে গতির ধারণা বোঝার জন্য দ্রুতি ও বেগ—এই দুটি রাশির মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত জরুরি। দৈনন্দিন জীবনে আমরা গাড়ি বা ট্রেনের গতি নিয়ে কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে পদার্থবিজ্ঞানের আলোচনায় গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার গতি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই গতিকে প্রকাশ করার জন্য দ্রুতি ও বেগ দুটি ভিন্ন রূপে ব্যবহৃত হয়। দ্রুতি হলো একটি স্কেলার রাশি, যার মান আছে কিন্তু দিক নেই। অন্যদিকে বেগ হলো ভেক্টর রাশি, যার মান ও দিক উভয়ই বিদ্যমান।

সরলরৈখিক গতির ক্ষেত্রে দিক সবসময় একই থাকে বলে দ্রুতি ও বেগের মান সমান হয়। তাই স্কুল পর্যায়ের পদার্থবিজ্ঞানের বইয়ে প্রায়ই দ্রুতিকেই বেগ বলে চিহ্নিত করা হয়। তবে পথ যদি আঁকাবাঁকা হয়, তাহলে দিক পরিবর্তনের কারণে দ্রুতি ও বেগের মানে পার্থক্য দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বস্তু যদি উত্তর দিকে ২০ মিটার এবং তারপর পূর্ব দিকে ২০ মিটার যায়, তাহলে তার মোট অতিক্রান্ত দূরত্ব ৪০ মিটার হলেও সরণ হয় মাত্র ২৮.২৮ মিটার। ফলে দ্রুতি হবে ১০ মিটার/সেকেন্ড, কিন্তু বেগ হবে ৭.০৭ মিটার/সেকেন্ড।

দ্রুতির সংজ্ঞা হলো—প্রতি একক সময়ে কোনো বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্বের হার। এর সূত্র: v = s/t, যেখানে s হলো অতিক্রান্ত দূরত্ব ও t হলো সময়। অন্যদিকে বেগের সংজ্ঞা হলো—প্রতি একক সময়ে নির্দিষ্ট দিকে সরণের হার। অর্থাৎ বেগ = সরণ/সময়। দ্রুতিকে সাধারণত কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় বা মিটার প্রতি সেকেন্ডে প্রকাশ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি গাড়ি ৩ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার গেলে তার দ্রুতি ৬০ কিমি/ঘণ্টা, যা এমকেএস পদ্ধতিতে ১৬.৬৬ মিটার/সেকেন্ডের সমান।

কৌণিক গতির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে কেবল কৌণিক বেগের ধারণা আছে, কৌণিক দ্রুতি বলে কিছু নেই। এর কারণ হলো দিকের ভূমিকা—কৌণিক গতিতে দিক পরিবর্তনশীল থাকায় বেগের ধারণাই বেশি প্রাসঙ্গিক। রৈখিক গতিতে বেগ ও দ্রুতির মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকলেও কৌণিক গতিতে তা স্পষ্ট হয়।

পদার্থবিজ্ঞানে ভেক্টর চিহ্ন (যেমন ṽ) দ্বারা বেগ নির্দেশ করা হয়, যেখানে দ্রুতির জন্য শুধু v ব্যবহার করা হয়। সরলরৈখিক গতি নিয়ে আলোচনা করার সময় দ্রুতির পরিবর্তে বেগ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এরা সমার্থক নয়। তবে নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে ভেক্টর গণিতের সীমিত ব্যবহার থাকায় বেগ বলতে দ্রুতিকেই বোঝানো হয়। শিক্ষার্থীদের এই সূক্ষ্ম পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।