টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ১০টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে এসব উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই সার্বক্ষণিকভাবে বন্যাকবলিত এলাকার খবরাখবর নিচ্ছেন এবং জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ঠাঁই পেয়েছে ১২ হাজারের বেশি মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ ও ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী ইতিমধ্যে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
সরকারি নির্দেশনায় বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলোতে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য ও প্রতিদিন তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সরেজমিনে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থান করে সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নেমে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বন্যায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন করছেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতা কমাতে রেললাইনটি পাঁচ ফুট উঁচু করে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোট ৪৭ কিলোমিটার এই রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসন তৈরির কথাও জানানো হয়।
পোস্টের শেষে মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রচেষ্টা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খুব শিগগিরই এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে দুর্গত মানুষের প্রতি গভীর সংহতি ও দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন।




