জীবিকার সন্ধানে এবং পরিবারে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য ফেরানোর প্রত্যাশায় প্রায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের মধ্য ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তুহিনুজ্জামান (৩৪)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস— স্বপ্ন পূরণের আগেই এক মর্মান্তিক কর্মস্থল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুহিনুজ্জামানের মরদেহ এসে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার স্ত্রী ফরিদা খাতুন মরদেহ গ্রহণ করেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বজন ও প্রতিবেশীরা অংশ নেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের শুরুর দিকে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার আশায় তুহিনুজ্জামান একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে সৌদি আরবের হাইল শহরে যান। সেখানে তিনি এসি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতেন। চলতি বছরের ২০ মে কাজের সময় ওপর থেকে একটি এসি ইউনিট পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় হাসপাতালে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ মে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পর দেশে ফেরা তুহিনুজ্জামানের কফিন বিমানবন্দরে সামনে আসতেই স্ত্রী ফরিদা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বামীর কফিন জড়িয়ে ধরে বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘মানুষটা বলেছিল, আর কয়েক বছর কষ্ট করলেই সংসারের সব অভাব দূর হবে। সন্তানদের জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়বে। কিন্তু সে সেই কথা রাখতে পারল না। এখন আমার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, জানি না।’
তুহিনুজ্জামান তার মা-বাবা, স্ত্রী ফরিদা খাতুন, আট বছর বয়সী মেয়ে তাকিয়া খাতুন তামান্না এবং দুই বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল তাওসীফকে রেখে গেছেন। তাদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে এবং উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তুহিনুজ্জামানই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এর আগেও কয়েক বছর বিদেশে কাজ করেও আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে না পারায় ঋণ করে পুনরায় সৌদি আরব গিয়েছিলেন ভাগ্য ফেরানোর আশায়। কিন্তু ঋণের বোঝা হ্রাস করে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আগেই এ দুর্ঘটনা তার জীবনাবসান ঘটায়।




