টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিভাস সরকারের বিরুদ্ধে একই পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের মারধর করার পর এবার প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) মির্জাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন উপজেলার তেঘরী কেশব গ্রামের বাসিন্দা বাসন্তী সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে বাসন্তী সরকারের সঙ্গে তাঁর স্বামী রামগোপাল সাহা, কন্যা পায়েল সাহা এবং প্রতিবেশী খুশীমোহন মণ্ডল ও ধীরেন সরকার উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে বাসন্তী সরকার জানান, প্রায় চার দশক আগে তাঁর পিতা সুনীল সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দা উপেন্দ্র মণ্ডলের উদ্যোগে নিজস্ব জমিতে দরিদ্র শিশুদের জন্য একটি পাঠশালা স্থাপিত হয়। শুরুতে সেখানে শিক্ষাদান চললেও পরবর্তী সময়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনটি বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জমির মালিকানার বিবরণ দিয়ে বাসন্তী সরকার দাবি করেন, ২০১২ সালে তাঁর বাবা সুনীল সরকার ১৪ দশমিক ৫০ শতক জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর ২০২১ সালে মিনতি রানী ওই জমি তাঁর দুই কন্যা রত্না সরকার ও বাসন্তী সরকারের নামে হস্তান্তর করেন। অভিযোগে বলা হয়, চেয়ারম্যান বিভাস সরকার সম্প্রতি ওই পাঠশালার চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে পরিবারটির চলাচলের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং তাঁদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
গত ২৭ জুন সকালে ওই স্থানে মাটি ফেলার কাজ আরম্ভ হলে বাধা প্রদান করতে গিয়ে বাসন্তী সরকার, তাঁর স্বামী ও মেয়ে চেয়ারম্যানের লোকজনের দ্বারা লাঞ্ছিত ও আহত হন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেশী খুশীমোহন মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান তাঁর লোকজন দিয়ে জায়গা দখল করে রেখেছেন। আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও আমরা নিজেদের জমিতে যেতে পারছি না। আমরা দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছি, আমাদের মরণই ভালো।’
তবে ইউপি চেয়ারম্যান বিভাস সরকার মুঠোফোনে এই সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলের পুরো জমিটি তাঁর নিজস্ব। জমি বিনিময় (এওজ) সূত্রে তিনি এই ভূসম্পত্তির মালিকানা লাভ করেছেন। প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাঁদের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎই হয় না।’ বিপরীতে অভিযোগকারী পক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, জমি এওজের কোনো ঘটনা সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ এবং এখনো নিয়মিতভাবে সরকারি নিয়মে জমির খাজনা পরিশোধ করে আসছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, বাসন্তী সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। উল্লেখ্য, পূর্বে মারধরের ঘটনায় ইতোমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।




