মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের চাকরির বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফরচুন ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের বেকারত্বের হার কমলেও তা প্রকৃত অগ্রগতি নির্দেশ করে না। বরং এটি শ্রমবাজার থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাদ পড়ার ইঙ্গিত দেয়।
গত ২ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দৃষ্টিতে এই পতন ইতিবাচক মনে হলেও, ফরচুনের বিশ্লেষকদের মতে গভীরে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।
এই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের কর্মক্ষম জনসংখ্যা ৬৭ হাজার বেড়েছে। অথচ বিপরীতে তাদের কর্মসংস্থান কমেছে ২১২ হাজার, এবং শ্রমশক্তি সঙ্কুচিত হয়েছে ৩৮৭ হাজার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যারা শ্রমশক্তির বাইরে রয়েছেন তাদের সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার। এই পরিসংখ্যান বলছে, বেকারত্বের হার কমার পেছনে মূল কারণ চাকরি প্রাপ্তি নয়, বরং বিপুল সংখ্যক নারী চাকরি খোঁজা ছেড়ে দিয়ে শ্রমশক্তি থেকে বেরিয়ে গেছেন।
বেকারত্বের হার শুধুমাত্র তাদেরই গণনা করে যারা বর্তমানে শ্রমশক্তিতে সক্রিয় এবং চাকরির সন্ধান করছেন। কেউ যখন চাকরি খোঁজা বন্ধ করে দেন, তখন তিনি আর বেকার হিসেবে পরিগণিত হন না। ফলে এই হার কমলেও প্রকৃত কর্মসংস্থানের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ক্ষেত্রে ঠিক এটাই ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদনে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের পরিসংখ্যানের সাথে তুলনা করে দেখানো হয়েছে যে তাদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হারের পতন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ঘটেছে। একই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশে নেমেছে। কিন্তু তাদের কর্মসংস্থান বেড়েছে ১২৫ হাজার, বেকারের সংখ্যা কমেছে ১২২ হাজার এবং শ্রমশক্তি প্রায় স্থির ছিল। অর্থাৎ তাদের ক্ষেত্রে বেকারত্ব কমেছে চাকরি পাওয়ার কারণে।
এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করেন। কারণ তারা সরকারি চাকরি, পরিচর্যা শিল্প, সেবাখাত, পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব এবং নিয়োগ ও পদোন্নতিতে কাঠামোগত বৈষম্য—একাধিক চাপের মুখে থাকেন। যখন তারা শ্রমশক্তি থেকে সরে যেতে শুরু করেন, তখন বোঝা যায় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে না, বরং তার সক্ষমতা হারাচ্ছে।
শুধুমাত্র সামগ্রিক বেকারত্বের হারের দিকে তাকালে বিভ্রম তৈরি হতে পারে। জাতি ও লিঙ্গভেদে পৃথক পৃথক চিত্র প্রকাশ পায়। শ্বেতাঙ্গ ও লাতিনা নারীদের ক্ষেত্রেও ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাই অর্থনীতির প্রকৃত স্বাস্থ্য বোঝার জন্য কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার এবং শ্রমশক্তির বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা—এই চারটি সূচক একসাথে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, বেকারত্বের হার কেবল তখনই ইতিবাচক সংকেত বহন করে যখন তা চাকরি সৃষ্টির মাধ্যমে কমে। কিন্তু মানুষ যদি শ্রমশক্তি ছেড়ে দেওয়ার কারণে হার কমে, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা। জুলাইয়ের তথ্য ইঙ্গিত দেয়, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের জন্য বেকারত্বের হার কমলেও বাস্তবে তাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং শ্রমবাজার থেকে তাদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে।


