যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের খরচ বর্তমানে এতটাই বেড়ে গেছে যে তা দেশটির কয়েকটি প্রধান বিভাগের সম্মিলিত ব্যয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরে মোট সুদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৫৭ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোভিড রিফান্ডেবল ক্রেডিট প্রকল্পের ব্যয়ের চেয়েও ২০ বিলিয়ন ডলার বেশি।

এই ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশন। তাদের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান ঋণের ধারা অব্যাহত থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন জেড ও জেন আলফা। ইওয়াই-এর কোয়ান্টিটেটিভ ইকোনমিকস অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (কোয়েস্ট) বিভাগের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ লাখ চাকরি হারিয়ে যেতে পারে। ২০৫৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২৭ লাখে এবং ২০৭৫ সালে ৩৬ লাখে পৌঁছাতে পারে।

শুধু কর্মসংস্থানই নয়, মজুরির ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। স্থিতিশীল ঋণের মাত্রার তুলনায় ২০৩৫ সালে বেতন ০ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০৫৫ সালে ৩ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক করছেন বিভিন্ন কর্পোরেট নেতা। সিটাডেলের প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিন ২০২৩ সালের শেয়ারহোল্ডারদের চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মতো কম থাকা অবস্থায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ঘাটতি বজায় রাখা সরকারের পক্ষে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যয়ে ঋণ নেওয়া বন্ধের ওপর তিনি জোর দেন।

জেপি মরগান চেজের প্রধান নির্বাহী জ্যামি ডাইমনও ঋণ নিয়ে শঙ্কিত। তিনি বন্ড মার্কেটে সংকটের আশঙ্কা করে এপ্রিল মাসে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিণত বয়সীদের উচিত এই সমস্যার মোকাবিলা করা, এটি ঘটতে দেওয়া নয়। যদিও তিনি একইসঙ্গে বিশ্বাস করেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের ফলে উন্নত অর্থনীতিতে ভবিষ্যতে সপ্তাহে সাড়ে তিন দিনের কর্মদিবস সম্ভব। তবে ঋণের বর্তমান পথ ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেদনের উপসংহারে পিটারসন ফাউন্ডেশন তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দেশের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগামী প্রজন্মের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে আজকের নেতাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।