দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের এক নেতার মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ। গত সপ্তাহে জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে নিজ বাসভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আন্দিলে মুভুয়েলওয়া সোমগক্সাডা। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কয়েকদিন পর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তি 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামের যে সংগঠনটির গুটেং প্রদেশের নেতৃত্বে ছিলেন, সেটি মূলত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার দাবিতে আন্দোলন করছে।
সংগঠনটির মুখপাত্র সান্দিলে ডুবের দাবি, এটি একটি প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড। তাঁর মতে, সংগঠনটি অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগের যে অভিযান চালাচ্ছে, তার জন্যই সোমগক্সাডাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্প্রতি সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা হুমকি ও মৃত্যুভয় পেয়েছেন। ডুবে বলেন, 'এটি একটি সুপরিকল্পিত হিটম্যানশৈলীর হত্যা বলে মনে হচ্ছে।' কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিষ্পত্তি এবং সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান ভীতি প্রদর্শনের তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুলেং ডিম্পানে একটি বিশেষ বহু-শৃঙ্খলা তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পুলিশ বাহিনী বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব সহকারে দেখছে তা স্পষ্ট করে। তিনি আরও বলেন, 'আমরা এই হত্যার পরিপূর্ণ তদন্ত করে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনথিভুক্ত অভিবাসন এখন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ইস্যু। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসব অভিবাসী সরকারি সেবার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং অপরাধের ঘটনায় জড়িত। মার্চ অ্যান্ড মার্চ গত ৩০ জুনের মধ্যে সব অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দেশ ত্যাগের জন্য একটি অসরকারি সময়সীমা বেধে দিয়েছিল। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক বিক্ষোভ মিছিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার পাঁচ সপ্তাহ আগে 'মাইগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট' কর্মসূচি শুরু করে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৫৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে নির্বাসিত বা প্রত্যাবাসিত করা হয়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে সমৃদ্ধ এই দেশটিতে জেনোফোবিয়া বা বিদেশিবিদ্বেষ দীর্ঘদিনের সমস্যা। অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে আসা অভিবাসীরা প্রায়ই সহিংসতার শিকার হন। বর্তমান বিক্ষোভের ধারায়ও সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার লিম্পোপো প্রদেশে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা অভিবাসন কর্মকর্তা সেজে এক নাইজেরীয় নাগরিককে দেশ ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নাগরিক আইনত দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিম্পানে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অভিবাসন পরিদর্শনের ক্ষমতা নেই। কাউকে সম্প্রদায় থেকে তাড়িয়ে দেওয়ারও অধিকার কারও নেই।
অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের আচরণ প্রসঙ্গে সান্দিলে ডুবে জানান, মার্চ অ্যান্ড মার্চ সব ধরনের সহিংসতা প্রত্যাখ্যান করে। আইনবিরোধী কোনো কাজকেও তারা সমর্থন করে না।
দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ৩০ লাখের বেশি নথিভুক্ত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে অনথিভুক্তদের সংখ্যা এর বাইরে। এদিকে ঘানা, কেনিয়া, মালাউই, নাইজেরিয়া ও উগান্ডাসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজ নিজ নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে বিমান ও বাসের ব্যবস্থা করছে।



