যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ বর্তমানে বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করেছে। জনগণের কাছে সরকারের মোট দায় দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০০ শতাংশের বেশি। দ্বি-দলীয় সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দশকে এই ঋণের হার জিডিপির ১৭৫ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। ইতিহাসের দীর্ঘ প্রমাণ রয়েছে যে, সরকারি ঋণ যখন জিডিপির ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয় এবং বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়।

ঋণের বোঝা কতটা প্রকট, তা বোঝা যায় সুদ পরিশোধের চিত্র দেখে। ২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে আদায় করা ব্যক্তি আয়করের ৩৬.৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে। অর্থাৎ প্রতি তিন ডলারের এক ডলারের বেশি কর সরাসরি চলে গেছে কেবল ঋণ সেবার পেছনে। সরকারি পণ্য ও সেবা বা ভর্তুকি প্রদানে তা ব্যবহার হয়নি। বর্তমান করদাতারা তাদের জন্মের আগে বা ভোট দেওয়ার বয়স হওয়ার আগে সরকার যে ঋণ নিয়েছিল, তার সুদ বহন করছেন। সিবিওর হিসাব আরও আশঙ্কাজনক—তাদের মতে ২০৩৬ সালের মধ্যে ব্যক্তি আয়করের আনুমানিক ৫০.৬ শতাংশ খরচ হবে শুধু সরকারি ঋণের সুদ বাবদ।

অতীতে কংগ্রেস ঘাটতি ব্যয় ও ঋণ নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার আইনগত উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৮৫ সালের গ্রাম-রুডম্যান-হোলিংস আইন ছিল সেসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ১৯৯১ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৮৭ সালে কংগ্রেস আইনটি বাস্তবায়ন দুই বছর স্থগিত করে এবং ১৯৯০ সালে পুরোপুরি পরিত্যাগ করে। ১৯৯০ সালের বাজেট বাস্তবায়ন আইন এবং ২০১১ সালের বাজেট নিয়ন্ত্রণ আইনের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি হয়েছে। বারবার আইনগত বাধানিষেধ ব্যর্থ হওয়ায় এখন সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল V) সেই পথ নির্দেশ করে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ (৩৪টি) রাজ্য আবেদন করলে কংগ্রেস একটি সাংবিধানিক কনভেনশন ডাকতে বাধ্য। ফেডারেল ফিসক্যাল সাসটেইনেবিলিটি ফাউন্ডেশনের সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ১৯৭৯ সাল নাগাদ ৩৯টি রাজ্য আর্থিক দায়বদ্ধতা সংশোধনীর জন্য আবেদন করেছিল। সে সময় সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬৪০ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান ঋণের ২ শতাংশ। কিন্তু কংগ্রেস তার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ তারা আর্থিক নিয়ন্ত্রণের বেড়াজালে পড়তে চায় না।

এ অবস্থায় গত ৩ জুন আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এআই) এক ফোরামে বর্তমান ও সাবেক নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ এবং রাজস্ব সংস্কারকর্মীরা একত্রিত হন। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস, হাউস বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান জোডে অ্যারিংটন, সাবেক সিনেটর ম্যাক্স বকাস ও জো ম্যানচিন, সাবেক ওহাইও গভর্নর জন কাসিচ, সিনেটর স্টিভ ডেইনেসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জাতীয় ঋণ নিয়ন্ত্রণের উপায় আলোচনা করেন। লেখকদের মতে একটি কার্যকর সংশোধনী হতে পারে যা জিডিপির শতাংশ হিসেবে ঋণের সীমা নির্ধারণ করে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া ফেডারেল ঋণ জিডিপির ১১০ শতাংশের বেশি হবে না। ২০৪০ অর্থবছরের মধ্যে তা ৯০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিধান রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে এই সীমা অস্থায়ীভাবে বাড়ানো যেতে পারে। সংশোধনী লঙ্ঘনের বছর সংশ্লিষ্ট সিনেটর বা প্রতিনিধিরা পুনরায় নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। বর্তমানে ২৮টি রাজ্যের সক্রিয় আবেদন থাকায় একটি সীমিত কনভেনশনের পথ পরিষ্কার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।