ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ডেভিসের গবেষকরা সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখিয়েছেন, বাজারজাত অধিকাংশ অ্যাভোকাডো তেল লেবেলযুক্ত পণ্যেই ভেজাল রয়েছে। বুধবার সায়েন্স ডাইরেক্টে প্রকাশিত ওই গবেষণা অনুসারে, ৫৪টি পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেগুলোর মধ্যে ৪৮টিতেই ক্যানোলা বা স্যাফ্লাওয়ারের মতো সস্তা তেল মেশানো ছিল।
গবেষণাটি চিপস, সালাদ ড্রেসিং ও মেয়োনিজের ওপর পরিচালিত হয়। সবগুলো সালাদ ড্রেসিং-ই পিউরিটি টেস্টে ব্যর্থ হয়, অ্যাভোকাডো তেলের লেবেলযুক্ত চিপসের ৯৩ শতাংশ এবং মেয়োনিজের ৭১ শতাংশের নমুনায় অন্যান্য তেলের উপস্থিতি পাওয়া যায়। অন্যদিকে, অলিভ অয়েল লেবেলযুক্ত ২০টি প্রক্রিয়াজাত খাবার পরীক্ষায় মাত্র একটি পণ্য ব্যর্থ হয়। গবেষকরা বলছেন, অলিভ অয়েলের ক্ষেত্রে কয়েক দশকের নিয়ন্ত্রক কঠোরতা থাকলেও অ্যাভোকাডো তেলের ক্ষেত্রে তা নেই বললেই চলে।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ও ইউসি ডেভিসের খাদ্যবিজ্ঞানের অধ্যাপক সেলিনা ওয়াং জানান, বেশিরভাগ খাদ্য কোম্পানি তৃতীয় পক্ষের ব্রোকার বা একাধিক সরবরাহকারীর কাছ থেকে তেল সংগ্রহ করে। কঠোর পরীক্ষা ছাড়া ভেজাল ধরা পড়ে না এবং ব্র্যান্ডগুলোও হয়ত জানে না যে তারা ভেজাল তেল ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, সরবরাহকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবেই অ্যাভোকাডো তেলের সঙ্গে সস্তা তেল মিশিয়ে তা খাঁটি বলে বিক্রি করছে।
গবেষণায় চোজেন ফুডস, কেটল ব্র্যান্ড, লে’স, লেসার ইভিল, প্রাইমাল কিচেন, সিয়েতে ও সিম্পলি ফ্রিটো লে-সহ দুই ডজনেরও বেশি ব্র্যান্ডের পণ্য পরীক্ষা করা হয়। গবেষকরা প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফ্যাটি অ্যালকোহল এস্টারের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে খাঁটি অ্যাভোকাডো তেলের সঙ্গে তুলনা করেন। এর মাধ্যমেই ধরা পড়ে সস্তা উদ্ভিজ্জ তেল মেশানোর ঘটনা।
ভোক্তারা অ্যাভোকাডো তেলের পণ্যের জন্য প্রিমিয়াম মূল্য দিতে রাজি আছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাভোকাডো তেলের পণ্যগুলো অন্যান্য সস্তা তেলের পণ্যের চেয়ে ৫০০ শতাংশ বেশি মূল্যে বিক্রি হয়। উদাহরণস্বরূপ, ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটে প্রচলিত মেয়োনিজের প্রতি আউন্স মূল্য প্রায় ১০ সেন্ট, যেখানে চোজেন ফুডস ও প্রাইমাল কিচেনের অ্যাভোকাডো তেলের মেয়োনিজের দাম প্রতি আউন্সে যথাক্রমে ৬৭ ও ৬৫ সেন্ট।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও ‘বেটার-ফর-ইউ’ প্যাকেটজাত খাবারের জনপ্রিয়তা অ্যাভোকাডো তেলকে মূলধারার রান্নার উপাদানে পরিণত করেছে। অলিভ অয়েল, নারকেল তেল ও ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসের মতোই এর চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু পিউরিটির জন্য কোনো শিল্প মান তৈরি হয়নি। এই ফাঁকেই সরবরাহকারীরা অল্প পরিমাণ অ্যাভোকাডো তেলের সঙ্গে সস্তা তেল মিশিয়ে মুনাফা বাড়াচ্ছে।
ইউসি ডেভিসের এই ফলাফল নতুন নয়। ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল বাণিজ্যিকভাবে বোতলজাত ৮২ শতাংশ অ্যাভোকাডো তেল বাজে বা অন্য তেল মেশানো ছিল। পরবর্তী গবেষণায় প্রাইভেট লেবেলের ৭০ শতাংশ অ্যাভোকাডো তেলেও একই সমস্যা ধরা পড়ে।
সেলিনা ওয়াং বলেন, 'ভোক্তারা ক্রমবর্ধমান হারে অ্যাভোকাডো তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি পণ্যের জন্য প্রিমিয়াম মূল্য দিচ্ছেন। তাদের যা কেনার কথা তা যেন তারা পান এবং খাদ্য প্রস্তুতকারকরা যেন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে খাঁটি উপকরণ কিনছেন—সে আস্থা তাদের থাকা প্রয়োজন।'



