বৈশ্বিক ডিজিটাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেন্ডিং স্পুনসের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্বের অন্যতম কঠোর বলে পরিচিত। গত বছর কোম্পানিটি ৮ লাখ চাকরির আবেদন পেয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ২৮৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইভেন্টব্রাইট, ভিমিও ও এওএল-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মালিক এই ২১ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানির প্রতিযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী লুকা ফেরারি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেরারি জানান, প্রথম ধাপেই হাজার হাজার প্রার্থীকে অতিক্রম করতে হয় এবং পরবর্তী প্রক্রিয়াটি অন্যান্য কোম্পানির নিয়োগ পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘লোকেরা যদি আমাদের পদ্ধতির ভেতরে দেখতে পেত, তাহলে তারা ভাবত আমরা পাগল। আশা করি ভালো অর্থে।’ প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ ৬০ হাজার প্রার্থীকে যুক্তি, বিচারক্ষমতা ও শেখার গতির পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এরপর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং বেন্ডিং স্পুনস তাদের নিয়োগ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রার্থীদের পরিমাণগত ও গুণগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে। সাক্ষাৎকার পর্যায়ে পৌঁছানোদের মধ্যে ৯ শতাংশেরও কম প্রার্থী শেষ পর্যন্ত চাকরির প্রস্তাব পান। ফেরারির মতে, ‘সাধারণ সাক্ষাৎকার প্রায় পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত, মুদ্রা নিক্ষেপের মতো। এটি মূলত সম্পূর্ণ অকেজো।’ সাক্ষাৎকার শেষে স্কোর জমা দেওয়া, রেফারেন্স যাচাই এবং শেষ পর্যন্ত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোম্পানির গ্রহণযোগ্যতার হার দাঁড়ায় মাত্র ০.০৪ শতাংশ, যা আইভি লীগ কলেজগুলোর সাধারণ ৪ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হারের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি নির্বাচনী। মিলানের এই মাঝারি আকারের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংখ্যা ১ হাজারেরও কম। অথচ তারা সিয়াটল, বোস্টন ও লাস ভেগাসের মতো শহরের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি আবেদন পেয়েছে। ফরচুন ম্যাগাজিন এ বিষয়ে বেন্ডিং স্পুনসের মন্তব্য চেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগ বাজারে শীতলতা দেখা দিয়েছে। গত বছর চাকরির সুযোগ কমে ৬৫ লাখ ৪০ হাজারে নেমে এসেছে, যা সেপ্টেম্বর ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। চলতি বছরের জুনে নিয়োগদাতারা মাত্র ৫৭ হাজার চাকরি যোগ করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মীসংখ্যা হুমকির মুখে পড়ায় অনেক কোম্পানি বাছাই করা ছাঁটাই করছে এবং অনিশ্চিত অর্থনীতিতে নিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে স্নাতক শেষ করা জেনারেল জেড কর্মীদের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। জুনিয়র কাজগুলো দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে এবং কোম্পানিগুলো তরুণ প্রতিভার পাইপলাইন কমিয়ে দিচ্ছে। মেটা, মাইক্রোসফট ও গুগলও এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। যারা এখনও চাকরির সুযোগ দিচ্ছে, তারা রেকর্ড সংখ্যক আবেদন পাচ্ছে। ম্যাচ গ্রুপ চলতি বছর তাদের ‘টিন্ডারশিপ’ প্রোগ্রাম পুনরায় চালু করলে বিপুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়। কোম্পানির সিইও স্পেন্সার রাসকফ লিংকডইন ও সামাজিক মাধ্যমে এই সুযোগ পোস্ট করলে ৩০ হাজারের বেশি তরুণ আবেদন করেন মাত্র ২৭টি পদের জন্য। ফলে গ্রহণযোগ্যতার হার দাঁড়ায় ০.০৯ শতাংশেরও কম, যা যে কোনো আইভি লীগ কলেজের চেয়েও বেশি নির্বাচনী। ওয়াল স্ট্রিট জায়ান্ট গোল্ডম্যান স্যাকসও চলতি বছর তাদের গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে ১ শতাংশেরও কম আবেদন গ্রহণ করেছে। ৩৩৭ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যাংকটি ৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ হাজার ৫০০ ইন্টার্ন নিয়োগ দিলেও প্রতিযোগিতা ছিল অত্যন্ত তীব্র। টানা তৃতীয় বছর এই ব্যাংক ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ১ জনেরও কম নিয়োগ দিয়েছে। শুধু বড় ব্র্যান্ডই নয়, ছোট কোম্পানিগুলোও একই চিত্র দেখাচ্ছে। পিটসবার্গের রোবোটিক্স ব্যবসা গেকো রোবোটিক্স ২০২৪ সালে ৩২টি ইন্টার্নশিপ পদের জন্য ৪০ হাজারের বেশি আবেদন পেয়েছে। ফলে গ্রহণযোগ্যতার হার ০.০৮ শতাংশেরও কম, যা বিশ্বের কিছু বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি নির্বাচনী।
৮ লাখ আবেদনে মাত্র ২৮৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছে বেন্ডিং স্পুনস, সিইও বলছেন সাক্ষাৎকার ‘অকেজো’
বিশ্বের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান বেন্ডিং স্পুনস গত বছর ৮ লাখ আবেদনের মধ্যে মাত্র ২৮৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছে। কোম্পানির সিইও লুকা ফেরারি বলেছেন, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর এবং সাধারণ সাক্ষাৎকার প্রায় ‘অকেজো’। আইভি লীগের চেয়েও ১০০ গুণ বেশি নির্বাচনী এই কোম্পানির গ্রহণযোগ্যতার হার মাত্র ০.০৪ শতাংশ।


