বাংলাদেশের জনপ্রিয় তারকাদের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে এবার ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় পেছনে ফেলেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বর্তমানে পরীমনির ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে, অন্যদিকে সাকিব আল হাসানের অনুসারী ১ কোটি ৬০ লাখের কিছু বেশি। ফলে দেশের তারকাদের মধ্যে ফেসবুক অনুসরণের নিরিখে এখন সবার ওপরে রয়েছেন পরীমনি।

অভিনয় ক্যারিয়ারের হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। প্রায় ১২ বছরের পথচলায় পরীমনি অভিনীত দুই ডজনের মতো চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেও সেগুলোর কোনোটিই হিট, সুপারহিট বা ব্লকবাস্টার তকমা পায়নি। বরং অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিজীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়েই তিনি বেশি আলোচিত হয়েছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত পোস্ট এবং অনুসারীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরির মাধ্যমেই পরীমনি আলোচনায় রয়েছেন। ব্যক্তিজীবনের নানা ঘটনা, ভ্রমণ, সন্তানের বেড়ে ওঠা, ফটোশুট, কাজের আপডেট—সবই তিনি নিয়মিত ভাগ করে নেন অনুসারীদের সঙ্গে। এ কারণেই তাঁর পোস্টগুলোতে প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের ঝড় ওঠে।

তার সাম্প্রতিক একটি পোস্ট এর প্রমাণ। গত রোববার কন্যাসন্তানের খুনসুটির একটি ভিডিও পোস্ট করে পরীমনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘সাজুনি বুড়ি দেখেন’ এবং একটি ভালোবাসার ইমোজি যুক্ত করেন। মাত্র ২২ ঘণ্টায় ভিডিওটি ৭৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পায়, মন্তব্য আসে প্রায় দুই হাজার এবং ভিউ হয় প্রায় ১৫ লাখ। এর আগের দিন সূর্যালোকে একটি সাধারণ ছবি পোস্ট করে ‘সানসাইশন’ লিখলেও তাতে প্রতিক্রিয়া পড়ে ৪৮ হাজারের বেশি।

ফেসবুকে সবার ওপরে ওঠার প্রসঙ্গে আজ সোমবার দুপুরে পরীমনি বলেন, ‘আমার জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলো আমি সবার সঙ্গে খোলা মনে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। আমার জীবনে কোনো ধরনের লুকোচুরি নেই। বাস্তবে আমি যা, ফেসবুকেও তার রিফ্লেকশন সব সময় থাকে। হয়তো সে কারণেই মানুষ আমাকে এতটা আপন মনে করেন। তাঁদের সবার এই ভালোবাসার মূল্য আমি সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো অর্জন নেই। যাঁরা এত দিন ধরে আমার পাশে আছেন, তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সবার ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে চাই।’

ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় সাকিব ও পরীমনির এই অগ্র–পশ্চাৎ নতুন নয়, তবে ব্যবধান আগে এত বেশি ছিল না। প্রায় তিন বছর আগে প্রথমবার তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা কাছাকাছি আসে। ২০২৩ সালের আগস্টে আবার সাকিব এগিয়ে যান। পরে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুজনই ১৬ মিলিয়ন অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করেন। এবার সেই ব্যবধান বাড়িয়ে শীর্ষস্থান নিজের করে নিলেন পরীমনি।

ক্রিকেট মাঠে সাকিবের সাফল্য বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায়। অন্যদিকে সিনেমার কাজের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা, ব্যক্তিজীবনের খোলামেলা ভাগাভাগি এবং অনুসারীদের সঙ্গে নিবিড় সংযোগের মাধ্যমেই পরীমনি আলোচনায় রয়েছেন। বক্স অফিসে বড় সাফল্য না থাকলেও ফেসবুকে এখন তিনিই সবার ওপরে।