আজ ২৮ জুলাই মালয়ালম চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত সুপারস্টার মাম্মুট্টির ছেলে দুলকার সালমানের জন্মদিন। ৪৪ বছরে পা রাখা এই তারকা বর্তমানে ভারতীয় সিনেমার এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। মাত্র এক দশকের অধিক সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি তারকাসন্তান হিসেবে পরিচিতির বাইরে গিয়ে নিজের প্রতিভা ও ভিন্ন স্বাদের চরিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে এক স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছেন।
অভিনয়ের জগতে আসার আগে দুলকারের জীবনের অধ্যায় ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি দুবাইতে একজন আইটি পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সিনেমার প্রতি টানেই চাকরি ছেড়ে পা রাখেন রূপালী পর্দার জগতে। প্রথম দিকে মালায়লাম ভাষার ছবিতে অভিনয় শুরু করলেও ক্রমে তিনি তামিল, তেলেগু ও হিন্দি সিনেমাতেও সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে মলিউডের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো চরিত্র নির্বাচনের সতর্কতা। প্রচলিত ধারার বাণিজ্যিক ছবির চেয়ে তিনি বরাবরই পছন্দ করেছেন ব্যতিক্রমী গল্প ও দুঃসাধ্য চরিত্র। ফলে তাকে এখন ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের একজন নির্ভরযোগ্য ও বহুমাত্রিক অভিনেতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
অভিনয়ের বাইরেও দুলকার একজন সফল উদ্যোক্তা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুলকার সালমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৭ কোটির রুপিরও বেশি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি ৮ থেকে ১০ কোটি রুপি করে পারিশ্রমক নেন। বিভিন্ন চলচ্চিত্রের মুক্তি ও ওটিটি প্লাটফর্মের সঙ্গে চুক্তির কারণে তার বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ ১০ কোটি রুপির বেশি বলে অনুমান করা হয়ে থাকে। ব্র্যান্ড অ্যংডোর্সমেন্ট থেকেও তিনি যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করছেন।
তিনি ওয়েফেয়ারার ফিল্মস নামের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেশ কিছু সিনেমা প্রযোজনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘ভারানে আভশ্যমুন্ড’, ‘কুরুপ’, ‘স্যালুট’, ‘পুঝু’, ‘কিং অব কথা’ এবং ২০২৫ সালের ব্লকবাস্টার ‘লোকাহ: চ্যাপ্টার ওয়ান–চন্দ্রা’। প্রায় ৩০ কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত ‘লোকাহ’ বিশ্বব্যাপী ৩০৩ কোটির বেশি রুপি আয় করে তার সবচেয়ে সফল প্রযোজিত ছবি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দুলকারের দূরদর্শিতা লক্ষ্যণীয়। রিয়েল এস্টেটে তার বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। পিতা মাম্মুট্টির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোচিতে একটি পরিবেশবান্ধব বিলাসবহুল ভিলার মালিক, যার আনুমানিক মূল্য ১০০ কোটি রুপি। এছাড়া দুবাইতে প্রায় ১৪ কোটি রুপি মূল্যের একটি প্রিমিয়াম পেন্টহাউসও তার সম্পদ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ির প্রতিও তার অনুরাগ সুবিদিত, যার সংগ্রহে রয়েছে পোরশে ৯১১ ক্যারেরা এস, অডি কিউ৭, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এসএলএস এএমজি, রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ এম৩ কনভার্টিবল ও ফেরারি ৪৫৮ স্পাইডারসহ বেশকিছু বহুমূল্য গাড়ি। পাশাপাশি ট্রায়াম্ফ বোনেভিল ও বিএমডাব্লিউ আর১২০০জিএস অ্যাডভেঞ্চারের মতো বিলাসবহুল মোটরসাইকেলও রয়েছে তার মালিকানায়।
বর্তমানে দুলকার সালমানের বিরুদ্ধে একটি বিতর্ক চলমান। ভুটান সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে বিলাসবহুল গাড়ির কথিত চোরাচালান চক্রের সাথে সম্পর্কের অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে কাস্টমস প্রিভেন্টিভ বিভাগ। এই তদন্তটি কর ফাঁকি ও অবৈধ গাড়ি আমদানি সংক্রান্ত একটি বড় অভিযানের অংশ। দুলকার সর্বদা দাবি করে আসছেন যে তার সব গাড়িই বৈধ পথে কেনা হয়েছে, তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
সিনেমায় ভিন্নধর্মী কাজের জন্য তিনি পুরস্কৃতও হয়েছেন যথেষ্ট। তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে পাঁচটি ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথ’, একটি ‘কেরালা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’, একটি ‘কেরালা ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’, এবং একটি ‘গাদ্দার তেলেঙ্গানা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’সহ বহু সম্মাননা। ফিল্মফেয়ার তার অভিনয়জীবনের সেরা ১২টি সিনেমার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক মূল্যবোধের গল্প ‘উস্তাদ হোটেল’ (2012), সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত ‘ব্যাঙ্গালোর ডেজ’ (2014), তাকে কেরালা রাজ্য পুরস্কার এনে দেওয়া ‘চার্লি’ (2015), মণি রত্নম পরিচালিত ‘ওকে কানমণি’ (2015), নগরায়নের কঠোর বাস্তবতা নিয়ে ‘কাম্মাট্টিপাডাম’ (2016), বলিউডে তার আভিষেক ঘটানো ইরফান খানের সঙ্গে ‘কারওয়া’ (2018), কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রীর জীবনী ‘মহানটি’ (2018), বাস্তব অপরাধী কুরুপকে নিয়ে থ্রিলার ‘কুরুপ’ (2021), সেনা কর্মকর্তার প্রেমের গল্প ‘সীতা রামম’ (2022), তেলেগু ছবি ‘লাকি ভাস্কর’ (2024), সমালোচকদের রোষানলে পড়া মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘চুপ: রিভেঞ্জ অব দ্য আর্টিস্ট’ (2022) এবং গ্যাংস্টার ড্রামা ‘কিং অব কতা’ (2023) উল্লেখযোগ্য।




