চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার চন্দ্রনগর অংশে অবস্থিত বাবুলের কলোনিতে গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম কয়েকজনের মাঝে এই রোগের উপসর্গ ধরা পড়ে। এরপর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, কমপক্ষে ১৭ জন ব্যক্তি বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আবদুল মতিন নামের ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শুক্রবার দুপুরে টেক্সটাইল মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন এবং মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতুল হালদার জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সাতজন রোগী তাদের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটি পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ। আবদুল মতিনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে জানান এই চিকিৎসক। বাবুলের কলোনির বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল হারুন অভিযোগ করেন, কলোনির পানির ট্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে। ট্যাংকের ভেতরে মৃত ইঁদুর পাওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, এই দূষিত পানি ব্যবহারের কারণেই ডায়রিয়ার এই মহামারি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ৩০ জনেরও বেশি হতে পারে। চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ওয়াসার কোনো সংযোগ নেই। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এলাকাটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটেশন কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবে একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত অন্তত ১৭
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি কলোনিতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবে আবদুল মতিন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ১৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। দূষিত পানির ট্যাংককে কারণ হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।




