নেত্রকোনা জেলায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মুহিদ খান ওরফে রিফাত (২২) নামের এক তরুণ। শুক্রবার ভোর চারটার দিকে ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেলপথের নেত্রকোনা শহরের রাজুরবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মুহিদ মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বড়পাইকুড়া গ্রামের মইনুল কবীর খানের ছেলে। তিনি রাজধানীর একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আন্তনগর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন মুহিদ। টিকিট সংগ্রহ করতে না পারায় তিনি ট্রেনের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভোরের দিকে ঘুমের ঘোরে তাঁর হাতের মুঠো আলগা হয়ে গেলে তিনি ট্রেনের দরজা থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। ট্রেনের চাকায় তাঁর একটি পা কাটা পড়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শরীরের বাকি অংশ পাশের একটি ডোবার পানিতে পড়ে যায়।
শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রেলওয়ে পুলিশকে খবর দিলে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আকমল জানান, তরুণের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাখা হয়েছে। পরে তা মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মুহিদের চাচাতো ভাই দেওয়ান রিয়াদ এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বলেন, ঢাকা থেকে হাওর এক্সপ্রেসে করে বাড়ি ফিরছিলেন মুহিদ। টিকিট না থাকায় তিনি ট্রেনের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভোরের দিকে ঝিমুচ্ছিলেন। হঠাৎ ঘুমের ঘোরে হাত ছুটে গেলে তিনি ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে যান। রাজুরবাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



