জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন স্বজন ও আহত যোদ্ধারা। সেখানে নিজের স্বামীর শেষ চিহ্নটুকু সংরক্ষণের আবেদন জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ মো. আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা আক্তার। তাঁর ছয় বছরের মেয়ে আরিফা জাহান লিলিও বাবার কবরে ফুল দিতে এসেছিল। ফারজানা বলেন, স্বামীর শেষ ইচ্ছা ছিল বাড়ির পাশে তাঁকে কবর দেওয়া হবে, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। বেওয়ারিশ হিসেবে তাঁকে রায়েরবাজারে দাফন করা হয়। ছয় মাস আগে কবর শনাক্ত হলেও বৃষ্টির কারণে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, শহীদদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তাঁর মেয়ে বড় হয়ে বাবার কবর দেখতে পারে।

শহীদ সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম বলেন, তাঁর ছেলে ১৮ জুলাই বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। শেষ দেখাটাও তিনি দেখতে পারেননি। এখন কবর মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও খুনিদের বিচার হয়নি। তিনি বেঁচে থাকতে বিচার দেখে যেতে চান বলে জানান। অন্যদিকে, শহীদ রফিকুল ইসলামের বোন জাহেদা করিম শৈশবে মা-বাবা হারানোর পর নিজেই ভাইকে বড় করেছেন। তাঁর কথায়, ভাইটি ছিল বুকের ধন, তাকে আর কোনো দিন আদর করা সম্ভব হবে না।

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের এই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হতো না শহীদদের আত্মত্যাগ ছাড়া। কিন্তু শহীদদের কবর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, নামফলক সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, শহীদদের প্রাপ্য সম্মান না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে কোনো সংকটে মানুষ রাজপথে নামবে না।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী নাবিল হোসেন, ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ফাহিম মাসরুর, বৈষম্যবিরোধী শহীদ-আহত সেলের সদস্য তামিম আহমেদ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত নাছির খান ও রাহাত আহমেদ। তাঁরা সবাই একযোগে শহীদদের কবর সংরক্ষণ, যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, ‘শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাবৃন্দ’ ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া শহীদদের স্বজন ও আহত ব্যক্তিরা অংশ নেন। মো. আসাদুল্লাহ (৩১) ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ২৪ জুলাই তাঁকে রায়েরবাজারে দাফন করা হয়। তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক ছিলেন।