কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুর মান খারাপ করে দিয়েছে, আর তার জেরে প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কানাডাকে তাদের বন ও ঝোপঝাড় সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করার অভিযোগে তোপ দেগেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র 'অপ্রয়োজনীয়ভাবে নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস' দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে এবং এই দূষণের খরচ কানাডা বর্তমানে যে শুল্ক দিচ্ছে, তার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
তবে ঠিক কী প্রক্রিয়ায় বা কী কর্তৃত্ব ব্যবহার করে তিনি বায়ু দূষণের জন্য কানাডাকে কর আদায় করবেন, তা স্পষ্ট নয়। শুল্ক কেবল পণ্যের ওপরই আরোপ করা যায়, বায়ুর ওপর নয়—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ফোন করে জানতে চাইবেন যে তারা দাবানল ও বায়ুর মান নিয়ে কী করতে যাচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার অধিকাংশ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্যগুলো এর বাইরে। কানাডায় তৈরি অটোমোবাইল, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা আছে।
অন্যদিকে, রবিবার নিউ জার্সির পূর্ব রাদারফোর্ডে বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে দাবানলের ধোঁয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনোর। ফিফা প্রধান এই বৈঠকে বিশ্বকাপের ওপর ধোঁয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ১২২টি দাবানল 'নিয়ন্ত্রণের বাইরে' রয়েছে এবং মোট ৮৮৮টি সক্রিয় দাবানল নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ধোঁয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল অংশ এবং গ্রেট লেকস অঞ্চলে বায়ুর মান নিয়ে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও কানাডাকে শাস্তি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ওহাইওর সিনেটর বার্নি মোরেনো বলেছেন, তিনি কানাডা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইন পেশ করবেন এবং অভিযোগ করেছেন যে কানাডা দাবানল প্রতিরোধ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস ও ফিফা প্রধানের মধ্যে এই বৈঠকের খবর দিয়েছে ফোর্বস। এছাড়া কানাডার দাবানলের ধোঁয়া ১৯টি রাজ্যে বায়ু মানের সতর্কতা জারি করেছে বলেও ফোর্বসের একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


