যশোরের চৌগাছা উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আরাফাত হোসেন (২২) চৌগাছা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার বাড়ি চৌগাছা উপজেলাতেই।

শনিবার রাত নয়টার দিকে আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্রী বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট কাজে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে আরাফাত ওই তরুণীকে মোটরসাইকেলে করে চৌগাছা শহরে নিয়ে যান। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে উপজেলা নির্বাচন অফিস বন্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে নানা প্রলোভন দিয়ে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাতেই তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত আরাফাত হোসেনকে রোববার আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

অপরদিকে, এ অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমন হাসান। তিনি উল্লেখ করেন, আরাফাত ও ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের মধ্যে বিগত ১৫ বছর যাবৎ একটি বিরোধ চলমান রয়েছে, যা নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন। সেই পুরোনো মামলার রায় নিজেদের পক্ষে আনার কৌশল হিসেবেই ধর্ষণের এ নাটক সাজানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতে থানায় গিয়ে ভুক্তভোগী নিজেই মামলা ছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে মা-বাবাকে সবকিছু খুলে বলেন তিনি। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আরাফাতকে আটক করতে সক্ষম হয়।