রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডের নাটকীয় তথ্য জানা গেছে। ছেলের নিজের বসানো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাতেই ধরা পড়ে গেছে এক বৃদ্ধা মায়ের নৃশংস হত্যার ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহত নারীর আপন নাতিকে আটক করে। আজ শনিবার ঢাকার একটি আদালতে ওই আটক ব্যক্তি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

নিহতের নাম মাহবুব আরা বেগম। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। গ্রাফতারকৃত আসামি আবু তালহা তার সম্পর্কের দেবর পুত্রের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকার চারতলা বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন মাহবুব আরা। ছেলে মোহাম্মদা মাহবুব হাসান সন্তানদের পড়াশুনার সুবাদে রাজধানীর ভিন্ন থানা এলাকায় থাকেন। মায়ের নির্জন বাসায় নিরাপত্তা চিন্তায় তিনি বিভিন্ন কক্ষে সিসিটিভি স্থাপন করেছিলেন।

মামলার এজাহার থেকে গোচা যায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যস্ততার কারনে ছেলেটি দীর্ঘসময় মায়ের খোঁজ নিতে পারেন নি। রাত প্রায় ৩ টার দিকে বাড়ির সিসিটি ভি ফুটেজ তিনি মোবাইলে চেক করতে গেলে বিভিৎস দৃশ্য দেখেন। রেকর্ডিং-এ দেখপান, বিকেল ৫টার একটু পর আতালহা আরো কিছু অপরিচিত লোকের সঙে বাসায় ঢোকেন। শয়নকক্ষে গিয়ে সে প্রথমে বালিশ ও পোশাক ব্যবহার করে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে ব্যর্থ হয়। মাহবুব আরা বাঁচতে প্রতিরোধ করতে ছাইলে তাকে খাট থেকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে অবশেষে তার পরিহিত ওড়না দিয়েই গলাটিপে হত্যা করে। এই নিহতর পর তার কানের গয়না নেওয়ার পর আসামি দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে পালায়।

মর্মান্তিক ভিডিওটি দেখা শেষে সন্তান মাম্মুদ হাসান তাৎক্ষণিকভাবে সাউথখান পুলিশ স্টেশনে মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরই পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সূত্রের ভিত্তিতে দুরন্ত গতিতে দক্ষিণ গাওইড় থেকেই আসামি আবু তালহাকে গ্রেফতার করল। শুক্রবারের আটক শেষ করে শনিবার তদন্তের অফিসার দক্ষিণ খানের সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুলাহ আল মামুন তাকে ঢাকা মেট্রো ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের বেঞ্চে সোর্পদ করলে সেখানে বিচারিক সব কথার রেকর্ড হয়। আদালতে পেশ করার কাজ শেষে কয়েদী ভাউচার ইসু শেষে কারা হেফাজতে প্রেরণের আবেদন জানান হয়। ঢাকা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রসিকিউটর সাব-ইন্সেক্টর আবু বক্কর সিদ্দিক পুরা পরিস্থিতি নিশ্চিত করিয়া জানিয়েছেন যে বিচারিক জবানীন্দির পর আদেশ মতেই কয়েদী এখন কারা গেটে।

নিহতের ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান গণমাধ্যম কে জানান, 'সিসিটিভি থাকার সুবাদেই অপরাধীকে এত জোরে খুঁজতে পেরেছি। আমি এ সমস্ত খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত চাই।'