অনেকের ধারণার বিপরীতে স্মার্টফোন বন্ধ রাখলেও ব্যাটারির চার্জ পুরোপুরি অপরিবর্তিত থাকে না। ফোন চালু না থাকলেও ব্যাটারি ধীরে ধীরে তার শক্তি হারাতে থাকে। তবে চালু অবস্থার তুলনায় এই হার অনেক কম। কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর ফোন চালু করলে দেখা যায়, আগের চার্জের পরিমাণ কমে গেছে। এই ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এবং ফোনের কিছু অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা।

ফোন বন্ধ থাকলেও এর সব যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয় না। কিছু সার্কিট অত্যন্ত সীমিত পরিসরে কাজ করতে থাকে। এর মধ্যে ‘ক্লক অ্যান্ড ওয়েক’ সার্কিট উল্লেখযোগ্য। এটি পাওয়ার বাটন চাপার সাথে সাথে ফোন চালু করতে এবং সময় ও তারিখ দ্রুত নির্ধারণ করতে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তবে বন্ধ অবস্থায় ব্যাটারি ক্ষয়ের মূল কারণ এটি নয়। সবচেয়ে বড় কারণ হলো ‘সেলফ–ডিসচার্জ’ বা ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক অবক্ষয় প্রক্রিয়া।

স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারির ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়া অব্যাহত থাকে। ফলে ফোন বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে গড়ে ১ থেকে ২ শতাংশ চার্জ কমে যায়। তাপমাত্রা বেশি হলে এই হার আরও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহার না করার পরিকল্পনা থাকলে ব্যাটারির যত্ন নেওয়া জরুরি। পুরোনো ফোন সংরক্ষণের আগে ব্যাটারির চার্জ প্রায় ৫০ শতাংশ রাখা উচিত। পুরোপুরি চার্জ দিয়ে বা সম্পূর্ণ চার্জ ছাড়া ফোন সংরক্ষণ করা ঠিক নয়।

দীর্ঘদিন ব্যাটারিতে চার্জ না থাকলে সেটি ‘ডিপ–ডিসচার্জ’ অবস্থায় চলে যেতে পারে। এতে ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ তামার কারেন্ট কালেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। তবে কয়েক মাস ফোন বন্ধ করে রাখলেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, তা নয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফোন স্বাভাবিকভাবে চার্জ দিয়ে আবার ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা আগের তুলনায় কিছুটা কমে যেতে পারে। সূত্র: এনগ্যাজেট।