গ্রাহকদের বিক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য উপাত্তকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসতে নতুন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্বাস্থ্য সহকারী উন্মোচন করেছে স্যামসাং। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্যামসাং হেলথ অ্যাপের জন্য এই সম্পূর্ণরূপে সংহত প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন অ্যাপ, ডিভাইস ও সেবা থেকে প্রাপ্ত অসংগঠিত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীকে সুসংহত এআই-ভিত্তিক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করা। ভোক্তা স্বাস্থ্যসেবা খাতের যন্ত্রপাতি ও সেবার বাস্তুতন্ত্র যেভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সেখানে এই উদ্যোগ মানুষের স্বাস্থ্য জ্ঞান ও সেবা প্রাপ্তির সুযোগকে উন্নত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত এক দশকে স্বাস্থ্য মেট্রিকস ট্র্যাকিংয়ের জন্য পরিধানযোগ্য যন্ত্রের ভোক্তা ব্যবহার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু প্রতিবেদন দাবি করছে যে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এখন অন্তত একটি পরিধানযোগ্য যন্ত্র ব্যবহার করেন, যেখানে ৮৩ শতাংশেরও বেশি মানুষ সপ্তাহে পাঁচ দিনের বেশি এমন একটি ডিভাইস পরেন। আংটি, ব্রেসলেট থেকে শুরু করে চশমা ও ঘড়ি— বিভিন্ন রূপ ও আকারের নতুন ডিভাইস আসায় ভোক্তাদের পছন্দের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রাথমিক স্মার্টফোন যুগের পর থেকে স্বাস্থ্যপাত ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ও অ্যাপের বাজার ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ভোক্তাদের জন্য গভীরভাবে সহায়ক হলেও, বিভিন্ন সেবা ও এগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত ডাটাকে একটিমাত্র সুসংহত বলয়ে নিয়ে আসার প্রয়াস খুব সামান্যই দেখা গেছে।
স্যামসাংয়ের নতুন হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্ল্যাটফর্মটি এই সঠিক সমস্যাটির সমাধানের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুসারে, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য প্রায়শই একাধিক যন্ত্র, অ্যাপ ও সেবার মধ্যে ছড়িয়ে থাকে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা তাদের সার্বিক সুস্থতার একটি পরিপূর্ণ চিত্র তৈরি করতে হিমশিম খান। স্বাস্থ্যপাতের প্রবাহ ও প্রাপ্যতা অভূতপূর্ব হলেও, অনেক ব্যবহারকারী তাদের এই তথ্যের অর্থ কী এবং কীভাবে তারা জীবনযাত্রায় অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারেন তা অনুধাবন করতে এখনও সংগ্রাম করেন। নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্রিত করে এই অন্তর্দৃষ্টিগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করবে। স্যামসাং নিজেই ডিভাইস ও অ্যাপের এক বিস্তৃত ইকোসিস্টেমের অধিকারী। তাদের স্মার্টওয়াচগুলো বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর মধ্যে একটি, যা ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ, ঘুম ও ফিটনেস ট্র্যাক করে এবং স্বাস্থ্যগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।
প্রযুক্তি জায়ান্টদের স্বাস্থ্যসেবার পরিমণ্ডলে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এখন একটি উদীয়মান ধারা। বিশেষ করে স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠান, যারা ঐতিহাসিকভাবে হার্ডওয়্যার ও যন্ত্রপাতি নির্মাণের জন্য পরিচিত, তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সফটওয়্যারে বিনিয়োগ একটি চমকপ্রদ সংকেত। এনভিডিয়া হলো এর আরেকটি বিশিষ্ট উদাহরণ। যদিও হার্ডওয়্যার এখনও তাদের প্রধান ব্যবসা, প্রতিষ্ঠানটি একটি সুবিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বিপুল সম্পদ ও অর্থ বিনিয়োগ করছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের ডেভেলপারদের জন্য রিসোর্স সরবরাহ করা, অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বে ওপেন-সোর্স মডেলের উন্নয়ন, হেলথকেয়ার রোবোটিক্স ও সিমুলেশন প্ল্যাটফর্মের উন্নতি, এবং ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়ন মডেলে সহায়তার জন্য নতুন পথ উদ্ভাবন — এই সবকিছুতেই এনভিডিয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।
বাস্তবতা হলো, এই প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের মধ্যে অসাধারণ মূল্য ও সুযোগের পূর্বাভাস দেখে এবং এই খাতের জটিলতা অনুধাবন করে। এ কারণেই গুগল ও অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলো স্বাস্থ্যসেবার পেছনে কোটি কোটি ডলার ঢেলেছে। গুগল ওষুধ উদ্ভাবন, এআই মডেল ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ করছে, আর অ্যামাজন ওয়ানমেডিকেলের মাধ্যমে সরাসরি চিকিৎসা সেবা প্রদান পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবা শিল্পের বহুবিধি সমস্যার সমাধান ভবিষ্যতের জন্য একটি অপরিহার্য আবশ্যকতা। যদিও একজন অংশগ্রহণকারী সম্ভাব্যভাবে সবকিছুর সমাধান করতে পারবে না, যতদিন একাধিক পক্ষ অন্তত চেষ্টা করার আগ্রহ বজায় রাখবে, ততদিন সামনে একটি উন্নত ভবিষ্যতের আশা জাগে।




