রাস্তায় জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের সাইরেন শোনা যায়। গাড়িটি কাছে আসার সঙ্গে শব্দের তীক্ষ্ণতা বাড়তে থাকে, আর দূরে যাওয়ার সময় তা মোটা হয়ে আসে। এই সাধারণ ঘটনার পেছনে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র—ডপলার প্রভাব। অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান ডপলার ১৮৪২ সালে প্রথম আলোর ক্ষেত্রে এই ঘটনা লক্ষ করেন। শব্দ তরঙ্গের মতো ছড়ায়; যখন শব্দের উৎস শ্রোতার দিকে এগিয়ে আসে, তখন তরঙ্গগুলো সংকুচিত হয়ে কম্পাঙ্ক বাড়ায়, ফলে শব্দ তীক্ষ্ণ হয়। অন্যদিকে, উৎস দূরে সরে গেলে তরঙ্গগুলো প্রসারিত হয়, কম্পাঙ্ক কমে যায় এবং শব্দ নিচু হয়। মজার বিষয় হলো, আলোর ক্ষেত্রেও ডপলার প্রভাব কার্যকর। সবুজ আলোর উৎস যদি দ্রুত গতিতে কাছে আসে, তা নীলচে দেখায়; আর দূরে সরে গেলে লালচে আভা ধারণ করে।
শব্দ ও আলোর এই জগতের বাইরে আমাদের চারপাশের সব কিছুর অস্তিত্বের পেছনে কাজ করে বৈদ্যুতিক আধান বা ইলেকট্রিক চার্জ। ইলেকট্রন ও প্রোটনের মতো কণার এই বিশেষ গুণের কারণেই তারা একে অপরকে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করে। চার্জ দুই প্রকার—পজিটিভ ও নেগেটিভ। সমধর্মী চার্জ পরস্পরকে দূরে সরিয়ে দেয়, বিপরীতধর্মী চার্জ একে অপরকে টানে। একটি ইলেকট্রনের চার্জ মাত্র -১.৬০২ × ১০⁻¹⁹ কুলম্ব, কিন্তু হিসাবের সুবিধায় ইলেকট্রনের চার্জ -১ ও প্রোটনের চার্জ +১ ধরা হয়। এই চার্জের কারণেই আমরা মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, কারণ পায়ের ও মাটির পরমাণুর ইলেকট্রন পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। সূর্যের বায়ুমণ্ডলের চার্জিত কণা থেকেই আলো ও শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পৃথিবীকে উষ্ণ ও বাসযোগ্য রাখে।
চার্জিত কণা যখন দল বেঁধে প্রবাহিত হয়, তাকে বিদ্যুৎপ্রবাহ বা ইলেকট্রিক কারেন্ট বলে। তামার তারের দুই প্রান্তে ব্যাটারি যুক্ত করলে ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য তৈরি হয়, যা ইলেকট্রনকে পজিটিভ প্রান্তের দিকে ছুটতে বাধ্য করে। বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ হলো অল্টারনেটিং কারেন্ট (এসি), যেখানে ইলেকট্রন প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বা ৬০ বার দিক পরিবর্তন করে। কারেন্টের একক অ্যাম্পিয়ার—প্রতি সেকেন্ডে ১ কুলম্ব চার্জ প্রবাহিত হলে ১ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট বলে। তবে সব পদার্থে কারেন্ট একভাবে প্রবাহিত হয় না। পরিবাহী পদার্থের রোধ (রেজিস্ট্যান্স) কম বলে তামা বা রুপার মতো ধাতু ভালো পরিবাহী; কাঠ বা প্লাস্টিকের রোধ বেশি, তাই তারা অন্তরক।
কারেন্টের পরিমাণ নির্ভর করে ভোল্টেজ ও রোধের অনুপাতের ওপর। ওহমের সূত্র অনুযায়ী, I = V/R, যেখানে I কারেন্ট, V বিভব ও R রোধ। ভোল্টেজ ও কারেন্টের গুণফল হলো ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার, যা ঘরের ফ্যান, লাইট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালায়। এই প্রতিবেদনটি হেজেল মুইরের 'সায়েন্স ইন সেকেন্ডস' বইয়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।



