বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, তখন অনেকেই নিজেদের প্রিয় দলের জার্সি গায়ে জড়াচ্ছেন। তবে সেই জার্সি নিজে পরার পাশাপাশি পরিবারের ছোট সদস্যদেরও পরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রথা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এক পক্ষ বলছেন, শিশুদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী জার্সি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে, সেটা লঙ্ঘিত হচ্ছে। অন্যপক্ষ অবশ্য এটাকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন।
একজন সাংবাদিক তার এক বছরের কম বয়সী কন্যাকে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করলে তাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হয়। কেন একটি নিষ্পাপ শিশুকে জোর করে ব্রাজিলের সমর্থক বানানো হচ্ছে—এমন প্রশ্ন ওঠে। জবাবে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মেয়েকে সঠিক পথে রাখা বাবার দায়িত্ব।’ তার এই উত্তর মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বুঝ হওয়ার আগেই শিশুকে এভাবে দলে ভেড়ানো কি ঠিক? নীতি-নৈতিকতা বলে কি কিছু থাকবে না?’ আরেকজন যুক্তি দেখিয়েছেন, ‘ওরা যখন বাস্তবতা বুঝবে, তখন আপনাতেই আকাশি-নীল জার্সি পরবে। এখন এসব জার্সি চাপিয়ে দিয়ে খুব একটা লাভ নেই।’
এই বিতর্ক এত দূর গড়িয়েছে যে অনেকে বিচার দাবি করে বসেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, বাচ্চাদের জার্সির অধিকার লঙ্ঘনের বিচার কোন আদালতে হবে? দেশের বর্তমান বাস্তবতায় ফুটবল উন্মাদনা সামলাতে ‘ফুটবল আদালত’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। সেই আদালতে জার্সি অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি জার্সি গায়ে চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির মতো অপরাধের বিচারও হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন।
এদিকে, ‘শিশুদের জার্সির অধিকার’ নিয়ে এখনো কোনো অধিকারকর্মী বা মানবাধিকার সংস্থা মুখ খোলেনি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে একটি অংশ।




