ভালোবাসার সম্পর্কে কখনোই ঝগড়া হবে না—এই ধারণা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মতবিরোধকে মর্যাদাপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা। আসল সমস্যা ঝগড়া নয়, বরং তার ধরন। দম্পতি থেরাপিস্টদের পর্যবেক্ষণ, কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই বিবাদ সম্পর্কের ক্ষতি না করে বরং তাকে আরও গভীর করতে পারে। নিচে উল্লেখ করা হলো সেই ১২টি স্বাস্থ্যসম্মত পন্থা।

প্রথমত, ঝগড়ার জন্য সঠিক সময় বেছে নেওয়া জরুরি। হঠাৎ আবেগের বশে তর্ক শুরু না করে দুজনই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে তবেই আলোচনায় বসা উচিত। একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে চা, কফি বা হালকা নাস্তা নিয়ে কথা বললে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, আগে থেকেই কিছু নিয়ম স্থির করে রাখা দরকার—গালাগাল, অপমান, বিদ্রূপ বা একে অপরের অনুভূতিকে ছোট করা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে একমত হওয়া। তৃতীয়ত, রাগের সময় কথা বলার গতি কমানো ও কণ্ঠস্বর নরম রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কথা বললে কেউই ঠিকমতো শুনতে পায় না।

চতুর্থত, বিচারক না হয়ে অনুসন্ধানী মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত। ‘তুমি এটা কীভাবে করতে পারলে?’ বলার পরিবর্তে ‘তুমি তখন কী ভাবছিলে?’ জিজ্ঞাসা করলে কৌতূহল সম্পর্ককে কাছাকাছি আনে। পঞ্চমত, ‘আমি খুব রেগে আছি’ না বলে ‘আমি তোমার অমুক আচরণে কষ্ট পেয়েছি’—এভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা সহানুভূতিশীল ও কম সংঘাতপূর্ণ করে তোলে। ষষ্ঠত, প্রকৃত সমস্যাটি চিহ্নিত করা জরুরি। অনেক ঝগড়ার পেছনে থাকে অবহেলা, অসম্মান বা নিরাপত্তাহীনতার মতো গভীর অনুভূতি, যা ছোটখাটো বিষয় দিয়ে প্রকাশ পায়।

সপ্তমত, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে শারীরিক স্পর্শ—যেমন হাত ধরা, কাঁধে হাত রাখা বা পাশে বসা—উভয়কেই শান্ত করতে সহায়তা করে। অষ্টমত, প্রয়োজনে চোখে চোখ রেখে না বলেও কথা বলা যেতে পারে। হাঁটতে হাঁটতে বা পাশাপাশি বসে কথা বললে কঠিন বিষয় বলা সহজ হয়। মুখে বলতে না পারলে লিখেও নিজের আবেগ প্রকাশ করা সম্ভব। নবমত, আলোচনা অতিরিক্ত উত্তপ্ত হলে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নেওয়া দরকার। যে কেউ বাইরে হেঁটে এসে বা বারান্দায় বসে শান্ত হতে পারেন, তবে পরে অবশ্যই আলোচনায় ফিরতে হবে।

দশমত, সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনার পরই নিজের উত্তর দেওয়া উচিত। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে। একাদশত, পুরোনো অভ্যাস বদলানো জরুরি—যেমন কেউ ঝগড়ার সময় চুপ হয়ে যান বা চিৎকার করেন, তার বদলে নিজের অনুভূতি খোলামেলাভাবে প্রকাশের চেষ্টা করতে হবে। দ্বাদশত, সব সমস্যার সমাধান একদিনে না হলেও দিনের শেষে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো—‘আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি। আজ না হলে কাল আমরা আবার কথা বলব। আমরা দুজনে মিলেই সমাধান করব।’

ঝগড়ার মধ্যেও একে অপরকে সম্মান করা, কথা মন দিয়ে শোনা এবং সমাধানের পথ খোঁজাই মূল কথা। ঝগড়া শেষে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনারা দুজন একপক্ষ এবং সমস্যাটি অন্যপক্ষ—এই মনোভাব বজায় রাখা সম্পর্কের জন্য কল্যাণকর। সূত্র: টাইম।