বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গণিত প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের (আইএমও) ৬৭তম আসর চীনের সাংহাইতে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় ওয়েস্ট বান্ড ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো সেন্টারে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা ওঠে এই গণিত মহোৎসবের। এবারের আসরে বিশ্বের ১২০টি দেশের ৬৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

বাংলাদেশ দলের ছয় সদস্য হলেন ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনামী জামান, ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাওয়াদ হামীম চৌধুরী, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী এম জামিউল হোসেন, চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রায়হান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মারজুক রহমান এবং ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন খান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রয়েছেন দলনেতা ও কোচ মাহবুবুল আলম মজুমদার, উপদলনেতা ও একাডেমিক সমন্বয়ক অপূর্ব কুমার এবং পর্যবেক্ষক ও সমন্বয়ক মো. বায়েজিদ ভূঁইয়া। বাছাই, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্ব এবং কঠোর ক্যাম্পিং শেষে এই দল গঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ইংরেজি ও চীনা ভাষায় সঞ্চালনা করেন চার উপস্থাপক। শুরুতে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের বর্ণিল প্রবেশ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিজ নিজ দেশের পতাকা হাতে মঞ্চে ওঠেন তারা। বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা হাতে শিক্ষার্থীদের গর্বিত উপস্থিতি দর্শকদের নজর কাড়ে। আইএমও বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক গ্রেগর ডলিনার তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘গণিত অলিম্পিয়াডের মূল সৌন্দর্য সমস্যা সমাধানের আনন্দে লুকিয়ে আছে। এ পর্যন্ত পৌঁছানো প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বড় অর্জন। সামনের সমস্যাগুলো কেবল পরীক্ষা নয়, তোমাদের সৃজনশীলতা প্রকাশেরও সুযোগ।’ এ সময় আইএমও বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল রিয়া ভ্যান হাফেল, চায়নিজ ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটির সভাপতি জি নানহুয়া এবং চায়না অ্যাসোসিয়েশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো জেইয়াও উপস্থিত ছিলেন।

দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ অংশে চীনের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখানো হয়। চীনা কিশোরদের ঐতিহ্যবাহী নাচ এবং মার্শাল ড্যান্স উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষ হয় বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের আহ্বানের মাধ্যমে।

উদ্বোধনী উৎসব শেষে শুরু হবে আসল লড়াই। আগামী ১৫ ও ১৬ জুলাই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে মূল পরীক্ষা। প্রতিদিন সাড়ে চার ঘণ্টায় মোট ছয়টি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করবেন শিক্ষার্থীরা। মেধার ভিত্তিতে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে রোমানিয়ায় শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ ২০০৪ সালে আইএমওর সদস্যপদ পায় এবং এবার ২২তম বারের মতো অংশ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১টি স্বর্ণ, ৭টি রৌপ্য, ৪০টি ব্রোঞ্জ পদক ও ৪৭টি সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনের মাধ্যমে এ দল নির্বাচন করা হয়েছে।