জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলন থেকে ৯ দফা দাবিসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শনিবার সন্ধ্যায় এই সম্মেলনের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুয়ত বাংলাদেশ। দেশের আলেম সমাজের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিনিধি এতে যোগ দেন। অনুষ্ঠান থেকে পাঠ করা ঘোষণাপত্রে নয়টি দাবির বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে এবং এসব দাবি আদায়ের জন্য জেলা ও মহানগর পর্যায়ে ধারাবাহিক সমাবেশের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—আইনের মাধ্যমে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি মহান আল্লাহ, সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং কোরআন-সুন্নাহ তথা ইসলামের অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। এছাড়া মাওলানা সা’দ, যিনি সাদ কান্ধলভী নামে পরিচিত, তাঁর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সা’দপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবিও উত্থাপিত হয়। একই সঙ্গে হিজবুত তওহীদকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার কথাও ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে ঢাকা অবরোধসহ আরও কঠোর ও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় সম্মেলন থেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরী। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের; তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য সম্মেলনে উপস্থাপন করেন মুহিউদ্দীন রাব্বানী। ওই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়, সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে যেসব দাবি পেশ করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সম্মেলনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করতে সংসদে বিল আনার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি জোর দাবি জানান। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, সরকার যদি কাদিয়ানিদের অমুসলিম হিসেবে ঘোষণা না করে, তাহলে আগামী নভেম্বরে সংসদ ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করতে হেফাজতে ইসলামের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাদিয়ানিদের অমুসলিম হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে একই সিদ্ধান্ত নিতে কোনো ধরনের অসুবিধা থাকার কথা নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য প্রদান করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা খলিল আহমদ কাসেমী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়তের সভাপতি আল্লামা সাজিদুর রহমান। সামগ্রিকভাবে এই সম্মেলন থেকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দাবির পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়, যা দেশের ধর্মীয়-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।