রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থায় রীতিমতো দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন নগরী ও আশপাশের জেলার হাজারো মানুষ। সোমবার রাত আটটা থেকে হঠাৎ করেই বাস চলাচল স্থগিত হয়ে যায়, যা মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেলিম খান। সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে বুধবার সকাল ১০টায় তাঁর ঢাকা থেকে ফ্লাইট ধরার কথা। রাজশাহী হয়ে ঢাকায় যেতে না পারলে ফ্লাইট মিস হওয়ার শঙ্কায় তিনি অটোরিকশা ভাড়া করে রাজশাহী আসেন। কিন্তু শিরোইল বাস টার্মিনালে এসে দেখেন সব কাউন্টারই বন্ধ। ‘রাতের মধ্যে ঢাকায় যেতে না পারলে ফ্লাইট ধরতে পারব না,’ আকুতি জানান তিনি।
অন্যদিকে, নগরের ভদ্রা এলাকায় গোদাগাড়ীর বিধান সাহা তাঁর মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে রংপুরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বড় বস্তা ও ব্যাগভর্তি মালপত্রের পাশাপাশি দুটি জীবিত রাজহাঁস নিয়ে সপরিবারে চরম বিপাকে পড়েন তিনি। এ ধরনের বহু যাত্রী স্টেশন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে বিকল্প পথের সন্ধান করতে থাকেন।
শ্রমিক নেতা মামিনুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে আছেন। এ সুযোগে একটি ‘দখলদার বাহিনী’ কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় নির্বাচনী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে এক মালিকের নাম প্রসঙ্গে শ্রমিক সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে সভা ত্যাগ করে তাঁরা ধর্মঘটের ডাক দেন। ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সভা করে নির্বাচন করতে হবে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না,’ জোর দিয়ে বলেন মামিনুল।
জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচনের দাবিদার এক পক্ষের ওপর হামলার ঘটনার পর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে (পাখি) সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। ওই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে গত মে মাসেও কয়েক দফায় ধর্মঘট করে শ্রমিকেরা। রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম (হেলাল) অভিযোগ করেন, ‘মিটিং তো হতেই পারে, কিন্তু তার জেরে বাস বন্ধ করে আমার চেম্বারে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে।’
এদিকে, সংকট নিরসনে প্রশাসন তৎপরতা শুরু করেছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী জানান, বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে বৈঠকে কীভাবে সমঝোতা সম্ভব তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা সময় নিয়ে বেরিয়ে যান এবং পরে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে, ধর্মঘটের কারণে আন্তঃজেলা পরিবহন স্তব্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।


