গত ৩ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগ করলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ তিনটি পদ শূন্য হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে সংস্থাটি নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে দুদকের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে নতুন অভিযোগ অনুসন্ধান ও মামলার অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আটকে রয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে গত ২২ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সার্চ কমিটি আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করার পর ১৩ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে কমিটির কাছে প্রায় ৪০ জন ব্যক্তি তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়াদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সংখ্যাই বেশি। চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক এক বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত এক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, প্রশাসন ক্যাডারের এক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত একজন।

জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের নাম, মা-বাবার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জন্মতারিখ, জাতীয়তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মজীবনের বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়েছে। পাশাপাশি মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদের অনুলিপি জমা দিতে হয়েছে। সার্চ কমিটি এখন এসব জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করবে। সূত্র জানায়, জমা পড়া আবেদনপত্রগুলো কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে খোলা হবে। এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে।

দুদক আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, সার্চ কমিটিকে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করতে হবে। পরে রাষ্ট্রপতি সুপারিশকৃতদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান ও দুজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন। দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলামের মতে, আইনানুযায়ী সার্চ কমিটি আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিটি পদের জন্য দুজন করে নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে, আর রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

আইনের ৮(১) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য আইন, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে ন্যূনতম ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবে সরকারি চাকরিরত কেউ এই পদে নিয়োগ পাবেন না। অন্যদিকে, ৮(২) ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিক নন, ঋণখেলাপি, দেউলিয়া, নৈতিক স্খলন বা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত, শারীরিকভাবে অক্ষম, কিংবা কর্মজীবনে বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ডে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি দুদকে নিয়োগের অযোগ্য বিবেচিত হবেন। সার্চ কমিটি আইনের এসব শর্ত মেনেই প্রার্থীদের মূল্যায়ন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।