পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে বৃক্ষমেলার নামে বসানো সব দোকান আজ মঙ্গলবার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিক্রেতারা নিজ উদ্যোগে মালপত্র গোছাচ্ছেন এবং বাঁশ-ত্রিপলের তৈরি অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে ফেলছেন। পার্কের নানা স্থানে চেয়ার-টেবিল, কাপড় ও অন্যান্য সরঞ্জাম স্তূপ করে রাখা হয়েছে; কোথাও কোথাও কেবল বাঁশের খুঁটি পড়ে আছে।
গত রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই দিন রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে গত ৮ আগস্ট ‘বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে পার্কে শাড়ি–গয়না–কাবাবের দোকান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে। সিটি করপোরেশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান না সরালে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ফলে প্রশাসনের চূড়ান্ত পদক্ষেপের অপেক্ষা না করেই দোকানিরা নিজেরাই সরিয়ে নিতে শুরু করেন।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গিয়েছিল, বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে পার্কের ভেতরে খাবার, পোশাক, শাড়ি, গয়না, খেলনা, চুড়ি, থালাবাসন ও ঘর সাজানোর সামগ্রীসহ নানা পণ্যের দোকান বসানো হয়েছে; এমনকি দুটি বক্সিং যন্ত্রও স্থাপন করা হয়েছিল। মেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, ৬০টি দোকানের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, তবে তখন পর্যন্ত ৩৩টি দোকান চালু ছিল। প্রতিটি দোকানের দৈনিক ভাড়া তিন হাজার টাকা বলে দোকানিদের ভাষ্য।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের ১০ দিনের জন্য ‘সবুজ আনন্দ মেলা ২০২৬’ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ৬ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও অনুমতির মূল উদ্দেশ্য বৃক্ষমেলা হলেও সেখানে বৃক্ষমেলা সংশ্লিষ্ট মাত্র একটি দোকান দেখা গিয়েছিল। বাকি সব দোকানই ছিল বাণিজ্যিক পণ্যের। এতে দর্শনার্থীদের চলাফেরা, বসা ও হাঁটায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল বলে জানায় ডিএসসিসি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, বাহাদুর শাহ পার্ক একটি ঐতিহাসিক এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থান। পার্কের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা তাদের অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, অনুমতির বাইরে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে পার্ক ও মাঠ ব্যবহারের অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।




