ক্রোয়েশিয়ার উপকূলীয় শহরগুলোতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বয়ে যাওয়া এক ভয়াবহ দাবানলের ফলে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোকভা রোগোজনিক গ্রামের কাছে এই আগুনের সূত্রপাত হয়, যা মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটন শহর ওমিসের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগুনের তাণ্ডবে প্রায় ১,২০০ বাসিন্দা ও পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ১০ জন রোগী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। ক্রোয়েশিয়ার দমকল প্রধান স্লাভকো তুচাকোভিচ এই অগ্নিকাণ্ডকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রবল বাতাসের প্রভাবে এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১,০০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অ্যাড্রিয়াটিক শহরের স্প্লিটের নিকটবর্তী গ্রামগুলোতে পাইন বনের ঢাল বেয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অসংখ্য বাড়িঘর ও গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তুচাকোভিচ জানান, আগুনের লেলিহান শিখা তার পথে আসা সবকিছুই ধ্বংস করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ৩০০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে নামলেও আগুনের তীব্রতায় তাদের মাঝে মাঝে পিছু হটতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘন ধোঁয়া ও বিশাল আগুনের লেলিহান শিখায় আকাশ লাল হয়ে গেছে এবং আতঙ্কিত মানুষ নিজেদের জীবন বাঁচাতে নৌক নৌকা থেকে সাগরে ঝাঁপ দিয়েছেন।
শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ জরুরি উদ্ধারকারী দলের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঝোড়ো বাতাস ও অভাবনীয় গতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাঝে দমকলকর্মীরা যা রক্ষা করতে পেরেছেন তা একটি মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনা। ওমিস ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কমান্ডার ভিশেস্লাভ পেশিচ রয়টার্সকে জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মানুষ তাদের গাড়ি মাঝপথেই ফেলে পালিয়ে যান, যার ফলে উদ্ধারকারী দলের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে।
কেবল ক্রোয়েশিয়া নয়, চরম তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পুরো ইউরোপজুড়ে দাবানলের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গ্রিসের আগিওস ভাসিলিয়োসে একটি সৈকত রিসর্ট থেকে ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ল্যান্ডেস অঞ্চলে ৫০০ এবং পশ্চিম জার্মানির গেয় গ্রাম থেকে ২,০০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের লাখ লাখ মানুষের কাছে উচ্চ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এলাকায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং অনেক বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে ল্যান্ডোভারির একটি গেস্টহাউস তাদের বুকিং বাতিল করে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের জন্য কক্ষ বরাদ্দ করেছে। নর্থ ওয়েস্ট কেমব্রিজশায়ারের সংসদ সদস্য এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে আরও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। এসএফআরএস স্টেশন কমান্ডার পল রিসব্রিজার উল্লেখ করেছেন যে, রাতে দাবানলের সূত্রপাত হওয়াটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।




