মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে গিলিড সায়েন্সেসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে যে সব কোম্পানি বিদেশ থেকে ওষুধ এনে দেশের ভেতরে বিকল্প তহবিল কর্মসূচির নামে সরবরাহ করত, সেই সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে।

বিচারপতিদের মতে, গিলিডের পেটেন্ট ও বৌদ্ধিক সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘন করে এই আমদানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে আপিল আদালতের এই রায় আন্তর্জাতিক ওষুধ বাণিজ্যে নতুন নজির স্থাপন করল। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, বিশেষ করে আফ্রিকা মহাদেশে চলমান বেশ কিছু স্বাস্থ্য সহায়তা কর্মসূচি এখন সংকটে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

বিকল্প তহবiling কর্মসূচিগুলো সাধারণত উন্নত দেশগুলোর তুলনায় কম দামে ওষুধ কিনে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরবরাহ করে থাকে। গিলিডের মতো বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালিত হতো। আদালতের এই রায়ের পর ওই সব কর্মসূচি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন নতুন কৌশল নিতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায়ের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের চিকিৎসায়। কারণ গিলিডের বেশ কিছু জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এখন পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছিল শুধুমাত্র বিকল্প আমদানির মাধ্যমে। আদালত অবশ্য বলেছে, কোম্পানিগুলো চাইলে গিলিডের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে বৈধ উপায়ে ওষুধ আমদানি করতে পারবে।

গিলিড সায়েন্সেস কর্তৃপক্ষ এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, এটি তাদের গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের স্বীকৃতি। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায়ের সমালোচনা করে বলেছে, এর ফলে ওষুধের দাম আরও বাড়বে এবং দরিদ্র দেশগুলোর রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে।