পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃতদেহ সৎকারে নিয়ম না মেনে তাড়াহুড়ো করার অভিযোগে দু'জন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে মামলা দায়ের হয়েছিল। মৃত চিকিৎসকের পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে এবং দ্রুত দাহ করার ঘটনায় এই মামলা করা হয়, যার নির্দেশ এসেছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে।
মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন নির্মল ঘোষ। বৃহস্পতিবার ওডিশার বালেশ্বরের একটি হোটেল থেকে কলকাতা ও ওডিশা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। শুক্রবার তাঁকে কলকাতায় আনা হলে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁর আট দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, কলকাতার নিউ টাউনের চিনার পার্ক এলাকা থেকে বৃহস্পতিবারই আটক করা হয় সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে। তাঁকে শুক্রবার আদালতে তোলা হলে সাত দিনের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
এর আগে গত ১৩ জুলাই নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ এবং এক কোটি টাকার লটারি বিজয়ীকে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ছিল। শুক্রবার সেই মামলাতেই নির্মল ঘোষকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, নারী চিকিৎসকের দাহকাজের সময় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মল ঘোষ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং সাবেক কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। দাহকার্যের মূল নেতৃত্বে ছিলেন নির্মল ঘোষই।
দুই আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। খড়দহ থানা এলাকায় পৌঁছালে একদল বিক্ষোভকারী তাঁদের দিকে ডিম ও ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের চোখে আঘাত লাগে। খড়দহ থানার সামনেও প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থায় ৩১ বছর বয়সী ওই নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। পরদিন ভোরে হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে গোটা পশ্চিমবঙ্গসহ সারা ভারতে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।




